ঢাকাশনিবার , ২৭ সেপ্টেম্বর ২০১৪
আজকের সর্বশেষ সবখবর

যশোর ও সাতক্ষীরার সীমান্ত দিয়ে প্রতিদিন দেশে ঢুকছে ৭-৮ হাজার গরু :কোটি টাকা চাদাবাজি

admin
সেপ্টেম্বর ২৭, ২০১৪ ১০:০৪ পূর্বাহ্ণ
Link Copied!

satkhira-cow-700x352

কোরবানির ঈদ আসন্ন। মুসলিম বিশ্বের সাথে তাল মিলিয়ে দক্ষীনাজ্ঞাল সহ বাংলাদেশের ধর্ম প্রাণ মুসলিমরা গরু কুরবানি দেওয়ার জন্য প্রস্তুত। প্রর্যা চাহিদা মেটাতে দেশীয় গরুর পাশাপাশি তাই তাই প্রতিদিন যশোর ও সাতক্ষীরার বিভিন্ন সীমান্ত দিয়ে দেশে প্রায় সাত থেকে আট হাজার ভারতীয় গরু ঢুকছে দেশের অভ্যান্তরে। এর ফলে সন্ধার পর থেকে গভীর রাত অবধী যেমনি এ অজ্ঞালের রোড গুলো থাকছে ভারতীয় গরু বোঝায় ট্রাকের দখলে তেমনি সক্রিয় হয়ে উঠেছে চাঁদাবাজরা। এক পরিসংখ্যানে দেখা গেছে এ সব গরু দেশের বিভিন্ন স্থানে পাঠাতে গিয়ে ব্যবসায়ীদের প্রায় দেড় কোটি টাকার চাঁদা গুনতে হচ্ছে। এই অবাধ চাঁদাবাজি নিয়ন্ত্রণে প্রশাসনের তেমন কোনো ব্যবস্থা নেই। এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট এলাকার থানাগুলোর ওসিরা বলছেন কোন চাঁদাবাজি হয় না, যা হয় তা ট্রাক মালিক, শ্রমীক সমিতির লেঅকেরা করে। তবে তারা স্বিকার করেছেন মাঝে মাঝে কিছু অপৃতিকর ঘটনা ঘটে থাকে।
কাস্টমস সুত্রে জানা গেছে ভারত থেকে প্রতিদিন আসা প্রায় সাড়ে চার হাজার গরু আইনী প্রক্রিয়ার মাধ্যমে দেশের অভ্যন্তরে ঢোকার ব্যবস্থা রয়েছে। যশোরের পুটখালি সীমান্ত পথে প্রতিদিন দুই হাজার এবং সাতক্ষীরার পদ্মশাখরা, তলুইগাছা, মাদরা, হিজলদী, চান্দুড়িয়া, ভোমরা, গাজীপুর, বড়ঘোনা, ছোটঘোনা, বৈকারি, কুশখালি এবং কাকডাঙ্গাসহ ১৭ টি সীমান্ত পয়েন্ট দিয়ে প্রতিদিন পাঁচ হাজার গরু দেশে ঢোকে। পরে এ সব জায়গায় গড়ে ওঠা গরুর খাটালের মাধ্যমে বিভিন্ন সরকারি করিডোরে ভ্যাট দিয়ে বৈধ করা হয়। গরু প্রতি গড় ভ্যাটের হার ৫শ ৫ টাকা। যশোরের নাভারণ ও সাতক্ষীরার কুলিয়া, লাতনি এবং সোনাবাড়িয়ায় চারটি করিডোর আছে।
খাটাল মালিক এবং গরু ব্যবসায়ীরা অভিযোগ করেছেন, সরকারি ভ্যাট ছাড়াও পথে অন্তত ১০ টি পয়েন্টে সন্ত্রাসীরা বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান বা সংঘ-সমিতির নাম করে চাঁদা আদায় করে। এর মধ্যে যশোরের ঝিকরগাছা হাসপাতালের মোড়ে আদায় করা হয় ১০০ টাকা। শার্শা উপজেলার নাভরণ মোড়ে ২০০ টাকা নেয়া হলেও শার্শা থানার বলকেছন গরুর ট্রাকে কোনো চাঁদাবাজি হচ্ছে না। সাতক্ষীরার শিকড়িতে ৩০০ টাকা, আবাদের হাটে ৫০০ টাকা এবং সাতক্ষীরার একটি শ্রমিক ইউনিয়নের নামে ৩০০ টাকা চাঁদা নেয়া হলেও সাতক্ষীরা থানা বলছেন আমরা চাঁদাবাজ খুঁজে বেড়াচ্ছি। কিন্তু কোথাও তাদের অস্তিত্ব পাচ্ছিনে। এই এলাকায় কোনো চাঁদাবাজি হয় না। কলারোয়ায় একটি শ্রমিক ইউনিয়নের নামে এখনো ৩০০ টাকা চাঁদা আদায় করা হচ্ছে। এ থানার ওসি দাবি করেন, তিনি গরুর ট্রাকে চাঁদাবাজি বন্ধ করেছেন। তিনি সাফ জানিয়ে দিয়েছেন, হাইওয়ের ওপর ট্রাক দাঁড় করিয়ে এক টাকাও চাঁদা নেয়া যাবে না। ১০টি পয়েন্টে এ ভাবে চাঁদাবাজি হওয়ায় গরু প্রতি কমপক্ষে দুই হাজার টাকা বাড়তি গুনতে হচ্ছে ব্যবসায়ীদের। সাত হাজার গরু ঢাকা ও চট্টগ্রামসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে পাঠাতে তাদের প্রতিদিন এক কোটি ৫০ লাখ টাকা চাঁদা দিতে হচ্ছে। এ ব্যাপারে আইন শৃংখলা রক্ষাকারী কর্তৃপক্ষের ন্যুনতম কোনো ভূমিকা লক্ষ্য করা যায় না।
এদিকে খাটাল মালিকদের বিরুদ্ধে ভারতীয় গরুর স্বাস্থ্য রক্ষার নামে গরুর দেহে নিষিদ্ধ ভারতীয় ডাইক্লোফেনাক ইঞ্জেকশন পুশ করার অভিযোগ উঠেছে। ভারতের দূর প্রদেশ থেকে সিন্ধি, ফ্রিজিয়ান, জার্সি, হরিয়ানা, নেপালি ও সম্বলপুরি জাতের গরুগুলো এ দেশে এসে আবহাওয়াগত কারণে ক্লান্ত ও অসুস্থ হয়ে পড়ে। দেশের অভ্যন্তরে বিভিন্ন স্থানে পৌছানো পর্যন্ত যাতে গরুগুলো সুস্থ থাকে সেজন্য এই ইঞ্জেকশন ব্যবহার করা হচ্ছে।
এ বিষয়ে প্রাণী সম্পদ বিভাগ জানিয়েছে, ডাইক্লোফেনাক ইঞ্জেকশন পুশ করা গরুর গোসতো খেলে মানবদেহে তার বিরূপ প্রতিক্রিয়া হওয়ার প্রবল আশংকা রয়েছে। এর প্রভাবে হার্ট, কিডনি, ফুসফুস আক্রান্ত হয়ে মানুষের মৃত্যু পর্যন্ত ঘটাতে পারে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ভারতীয় এ ওষুধটির অপব্যবহারে একদিকে যেমন মরণব্যাধিতে আক্রান্ত হচ্ছে মানুষ, তেমনি বিলুপ্তির পথে খাদ্যশৃংখলের উচ্চস্তরের প্রাণী শকুন। দক্ষিণবঙ্গের সর্ববৃহৎ গরুর হাট বসে ভারত সীমান্ত সংলগ্ন যশোরের শার্শা উপজেলার পুটখালীতে। ভারত থেকে আনার পর প্রতিদিন এ হাট থেকে সহস্রাধিক গরু দেশের বিভিন্নস্থানে সরবরাহ করা হয়। বৈরী পরিবেশের মধ্য দিয়ে দীর্ঘ সময় ধরে আমদানিকৃত গরুগুলো অন্যত্র স্থানান্তরের প্রক্রিয়া চলায় সেগুলো বিভিন্ন রোগে আক্রান্ত হয়। এসময় সেগুলোকে সুস্থ রাখতে ২০১০ সালে এদেশে নিষিদ্ধ চোরাই পথে আনা ভারতীয় ডাইক্লোফেনাক ইনজেকশন ব্যবহার করে বেপারীরা। বেপারীদের চাহিদার কারণেই ইনজেকশনটি ব্যবহার করা হয় বলে দাবি স্থানীয় চিকিৎসকদের।
এ ব্যাপারে বেনাপোল উপজেলা প্রাণীসম্পদ কর্মকর্তা বলেন, উচ্চমাত্রার এ ওষুধ ব্যবহারের কারণে বিলুপ্তির পথে খাদ্যশৃংখলের উচ্চস্তরের প্রাণী শকুন।
এ ব্যাপারে যশোর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মেডিকেল অফিসার বলেন, গরুর দেহে মাত্রাতিরিক্ত ডাইক্লোফেনাক ব্যবহারের কারণে মারাতœক ব্যাধিতে আক্রান্ত হতে পারে মানুষও।
এ ব্যপারে যশোর জোনের ওষুধ তত্ত্বাবধায়ক বলেন, গরুর দেহে মাত্রাতিরিক্ত ডাইক্লোফেনাক ব্যবহারের মানুষ এবং প্রাণী কুলের জন্য মারাত্মক হুমকি স্বরূপ। এটি বন্ধের জন্য তারা প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেয়ার কথা জানালেন ।
বাংলাদেশ হাইওয়ে পুলিশ যশোরে জোনের এএসপি সানোয়ার হোসাইন বলেন, প্রভাবশালীদের কারণেই অনেকক্ষেত্রে এ চাঁদাবাজি নিয়ন্তণ করা সম্ভব হয় না।
এ ব্যাপারে যশোরের পুলিশ সুপার আনিসুর রহমান বলেন, ডাইক্লোফেনাক ইঞ্জেকশন পুশ করা গরুর গোসতো খেলে মানবদেহে মারাত্মক ক্ষতি হয়, এটা বন্ধ করার জন্য সার্বক্ষণিক আমাদের মোবইল টিম কাজ করছে, তিনি বলেন কারো কাছে কোন সঠিক তথ্য থাকলে আমাদের বললে আমরা তড়িৎ ব্যবস্থা নেবো। তিনি বলেন বেশির ভাগ ক্ষেত্রে রাস্তার চাঁদাবাজিটা হয় শ্রমিক উন্নোয়নের নামে। তাছাড়া তিনি বলেন যদি এর বাইরে কেউ কোন ধান্দা করার চেষ্টা করে তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য আমরা সার্বক্ষণিক প্রস্তুত।

এই সাইটে নিজম্ব নিউজ তৈরির পাশাপাশি বিভিন্ন নিউজ সাইট থেকে খবর সংগ্রহ করে সংশ্লিষ্ট সূত্রসহ প্রকাশ করে থাকি। তাই কোন খবর নিয়ে আপত্তি বা অভিযোগ থাকলে সংশ্লিষ্ট নিউজ সাইটের কর্তৃপক্ষের সাথে যোগাযোগ করার অনুরোধ রইলো।বিনা অনুমতিতে এই সাইটের সংবাদ, আলোকচিত্র অডিও ও ভিডিও ব্যবহার করা বেআইনি।