ঢাকাশনিবার , ১৩ আগস্ট ২০১৬
আজকের সর্বশেষ সবখবর

মণিরামপুরে আবারো বৃদ্ধি পাচ্ছে বন্যার পানি : ত্রাণ সামগ্রী অপ্রতুল : বিভাগীয় কমিশনারের পরিদর্শন

Tito
আগস্ট ১৩, ২০১৬ ৪:১৬ অপরাহ্ণ
Link Copied!

[dropcap][/dropcap]

মনিরুজ্জামান টিটো :
মণিরামপুরের বন্যা কবলিত এলাকায় সরকারী ভাবে ক্ষয়-ক্ষতি নিরূপন করেছে স্থানীয় সরকারী দপ্তর সমূহ। তবে কোন কোন এলাকায় নতুন করে পানি বৃদ্ধি পাওয়ায় রাস্তার উপর পলিথিন-বাঁশের ঘরের সংখ্যা বৃদ্ধি পাচ্ছে। খুলনার বিভাগীয় কমিশনার আব্দুস সামাদ শনিবার কবলিত এলাকা পরিদর্শন করেছেন। সরকারের পক্ষ থেকে পাঁচ দিন পর সামান্য ত্রাণ সামগ্রী পাওয়ায় ক্ষোভ প্রকাশ করছেন পানিবন্ধি মানুষেরা।
স্থানীয় সরকারী অফিস সূত্রে জানা যায়, উপজেলার বন্যা কবলিত ইউনিয়ন সমূহের পশ্চিমাঞ্চলের চালুয়াহাটী, খেদাপাড়া ও রোহিতা এবং পূর্বাঞ্চলের নেহালপুর, হরিদাসকাটি, ঢাকুরিয়া ও কুলটিয়া এলাকা থেকে পানি কমতে শুরু করলেও শ্যামকুড়, দূর্বাডাঙ্গা, মশ্বিমনগর, মনোহরপুর, ঝাঁপা ও হরিহরনগর এলাকায় পুনরায় পানি বৃদ্ধি পেতে শুরু করেছে। কপোতাক্ষ ও ভবদহের উপচে পড়া পানি মুক্তেশ্বরী, শ্রী হরি, হরিহরনদীসহ বিভিন্ন খাল দিয়ে লোকালয়ে প্রবেশ করছে। এতে নতুন করে আতংক দেখা দিয়েছে গ্রামবাসীর মাঝে। ইতিমধ্যে বন্যা কবলিত এলাকার মানুষ যশোর-সাতক্ষীরা মহাসড়কসহ অন্যান্য সড়ক, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ও আশ্রয় কেন্দ্রে অবস্থান করছে। হাঁস, মুরগী, গরু, ছাগল ও অন্যান্য গবাদী পশু নিয়ে রাস্তার উপর পলিথিন-বাঁশের ঘর তৈরী করছে বানভাসী মানুষ। আস্তে আস্তে রাস্তার ধারে এসব টোং ঘর বৃদ্ধি পাচ্ছে। এদিকে বন্যা কবলিত হওয়ার প্রায় ৫ দিন পর শনিবার সামান্য সরকারী ত্রাণ সামগ্রী দেওয়া হয়েছে কয়েকটি এলাকায়। দীর্ঘদিন পরে যতসামান্য ত্রাণ সামগ্রী নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন অনেকেই। তবে বৃহৎ অংশের পানিবন্ধি মানুষ এখনো কোন ত্রাণ সামগ্রী পায়নি। শনিবার বিকেলে খুলনা বিভাগীয় কমিশনার আব্দুস সামাদ উপজেলার শ্যামকুড় ইউনিয়নের হাসাডাঙ্গাসহ যশোর-সাতক্ষীরা মহাসড়কের উপর অবস্থানরত বানভাসী মানুষের অবস্থা সরেজমিনে পরিদর্শন করেছেন। এদিন বিকেলে স্থানীয় উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান আমজাদ হোসেন লাভলু, উপজেলা নির্বাহী অফিসার কামরুল হাসান, জেলা ত্রাণ ও পূনর্বাসন কর্মকর্তা নুরুল ইসলাম, উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা লুৎফর রহমান উপস্থিত থেকে উপজেলা ফকির রাস্তা এলাকায় অবস্থানরত বানভাসীদের মাঝে ত্রাণ সামগ্রী বিতরণ করেন। স্থানীয় ইউপি চেয়ারম্যান মনিরুজ্জামান মনি বলেন, প্রায় ৫ দিন পর যে পরিমাণ ত্রাণ সামগ্রী দেওয়া হয়েছে তা পর্যাপ্ত নয়। রাস্তার ধারের পলিথিন-বাঁশের টোং দিনদিন বৃদ্ধি পাচ্ছে এবং দক্ষিণের চাপে পানি বৃদ্ধি পাচ্ছে বলে তিনি জানান। এদিকে উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা শুশান্ত তরফদার জানান, এবারের বন্যায় উপজেলার ৭ হাজার ৭’শ ৫০ হেক্টর আমন, ১ হাজার ৬’শ ৫০ হেক্টর আউশ, ১’শ ৩০ হেক্টর বীজতলা, ১ হাজার হেক্টর সবজি ও ১৫ হেক্টর জমির মরিচ ফসল সম্পূর্ণ রূপে বিনষ্ট হয়েছে। উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিস জানায়, বন্যায় প্রায় ১৪ টি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে পাঠদান ব্যহত হচ্ছে। মাধ্যমিক শিক্ষা অফিস জানায়, ১৩ শিক্ষা প্রতিষ্টানে পানি ঢুকে পড়ায় বন্ধ করতে বাধ্য হয়েছে বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ। তবে মণিরামপুরের অর্থনীতিতে বড় ভূমিকা পালনকারী মৎস্য চাষে বন্যায় চরম ক্ষতি সাধিত হলেও ক্ষয়-ক্ষতির পরিমাণ জানাতে পারেননি উপজেলা মৎস্য কর্মকতা আনোয়ারুল কবীর। অন্য একটি বিশ্বস্থ সূত্র জানায়, পানির নিচে তলিয়ে একাকার হয়ে গেছে প্রায় ১ হাজার হেক্টর মৎস্য ঘের, যুবে গেছে ছোটবড় প্রায় ৭’শ পুকুর। উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা মোঃ লুৎফর রহমান জানান, বন্যার পানি কমতে শুরু না করলে বাস্তব ক্ষয়-ক্ষতির পরিমাণ নিরূপন সম্ভব হচ্ছেনা, তবে উর্দ্ধতন কর্তৃপক্ষের নিকট পর্যাপ্ত ত্রাণ সামগ্রীর আবেদন করা হয়েছে। ইতিমধ্যে সরকারের পক্ষ থেকে ত্রাণ সামগ্রী বিতরণ শুরু হয়েছে।

এই সাইটে নিজম্ব নিউজ তৈরির পাশাপাশি বিভিন্ন নিউজ সাইট থেকে খবর সংগ্রহ করে সংশ্লিষ্ট সূত্রসহ প্রকাশ করে থাকি। তাই কোন খবর নিয়ে আপত্তি বা অভিযোগ থাকলে সংশ্লিষ্ট নিউজ সাইটের কর্তৃপক্ষের সাথে যোগাযোগ করার অনুরোধ রইলো।বিনা অনুমতিতে এই সাইটের সংবাদ, আলোকচিত্র অডিও ও ভিডিও ব্যবহার করা বেআইনি।