1. admin@manirampurprotidin.com : admin :
  2. hnurul146@gmail.com : nurul :
  3. titonews24@gmail.com : Tito :
শিরোনাম :
কেশবপুর উপজেলা চেয়ারম্যানকে হত্যার হুমকির প্রতিবাদে মানববন্ধন ও বিক্ষোভ মণিরামপুরে সাংবাদিক পুত্র মাহির গোল্ডেন জিপিএ-৫ লাভ মণিরামপুরে ইকবালকে কমিটি গঠন কার্যক্রম থেকে বিরত থাকার নির্দেশ : রোহিতার আহ্বায়ক বহিষ্কার মণিরামপুরে ২দিন ব্যাপি ডিজিটাল উদ্ভাবনী মেলার শুভ উদ্বোধন মণিরামপুরে গ্রাম ডাক্তারের ভুল চিকিৎসায় স্কুল ছাত্রীর হাতে পঁচন ।। আদালতে মামলা মণিরামপুরে সাবেক অধ্যক্ষ মাওলানা বজলুর রহমানের ইন্তেকাল আয়েবাপিসি’র সাধারন সম্পাদক বকুল খানকে যুক্তরাজ্যে বিভিন্ন সংগঠনের সংবর্ধনা সাতবাড়িয়া ইউনিয়ন পরিষদ সচিবের প্রকাশ্যে ঘুষ গ্রহন মণিরামপুর জুয়েলারী সমিতি পক্ষ থেকে কাউন্সিলর বাবুলাল চৌধুরীকে সংবর্ধনা মণিরামপুরের শীর্ষ ব্যবসায়ী রতন পালের স্ব-পরিবারে ভারত পাড়ি! কিন্তু কেন ?

মন পড়ে থাকে মনিরামপুর !

  • আপডেট: রবিবার, ১ মার্চ, ২০২০
  • ১৭৫০ দেখেছেন

বিশেষ প্রতিনিধি  ।।
একটি জীবনের জন্য ৩৩টি বছর নিতান্তই কম নয়, অনেক দীর্ঘ সময় বলতে গেলে জীবনে অর্ধেকেরও বেশি।আর সেটা যদি হয় হয় কোন যাযাবর জীবন। স্বজন বিহীন কষ্টক্লান্ত কঠিন জীবন । যেখানে সময় নেই। সূর্যোদয় থেকে সূর্যাস্ত থাকতে হয় অবিশ্বাস্য জীবনসংগ্রামের সাইক্লোনে। ৩৩ বছর আগে যে শিশুটি জন্মগ্রহণ করেছে সে আজ দুরন্ত যুবক। ৭ বছরেরও বেশি সময় ঢাকায় ৪/৫ মাস পরপর গ্রামে যাওয়া পড়ে মাত্র ২৪/৪৮ ঘন্টার জন্য হৃদয়ের টানে।

কবির ভাষায় যখন নিজের অজান্তেই বারবার বলতে ইচ্ছে হয়—
“স্বদেশ কী গাঢ় সবুজ মায়াভূমি
অমল মাখামাখি জ্যোৎস্না
তাই কী, যত দূরে ফেলে আসি
তত কঠিন বাঁধনে আঁকড়ে ধরে প্রাণের রজ্জুতে।
এ বড় বৃহৎ প্রেম সতত স্বজনের প্রতি…।”
গ্রামে যাব, গ্রামে যাব বলে যাযাবর জীবনের এই প্রতিটি দিন, প্রতিটি ক্ষণ আমাকে তাড়িয়ে বেড়াত। কষ্ট–কঠিন কর্মক্ষেত্রে, নিদ্রায়-জাগরণে,গ্রাম নিয়ে বুনেছি কত সহস্র সহস্র স্বপ্নের মালা। দিন যায়, মাস যায়, বছর যায় তবুও আসে না সেই শুভক্ষণটি।আসলে তা পথে পথে শেষ হয়ে যায়।মা দাঁড়িয়ে থাকে পথ চেয়ে আমি আসব,আবারো দাঁড়িয়ে থাকে পথ চেয়ে আমি ফিরব।
আমি আমার জন্মভূমি বাংলাদেশের এক নিতান্তই নিভৃত পল্লির সন্তান। আমার প্রিয় গ্রাম যশোর জেলার মনিরামপুর পৌর শহরের ৪নং ওয়ার্ড দূর্গাপুর আমাকে টানে। হরিহর নদীর স্রোত আমাকে টানে। মুক্তিযোদ্ধা বৃদ্ধ তক্কেল খালু হাতে হুঁকো নিয়ে খেতের আল ধরে বাড়ি ফেরার পথে আমাকে যেন বলছেন, কেমন আছ বাবা তুমি?
ফেলে আসা প্রিয় গ্রাম, গ্রামের মানুষ, পরিচিত জনপদ আমাকে টানে, ফিরিয়ে নিয়ে যায় ফেলে আসা অতীত বিন্যাসে শৈশব আর কৈশোরের স্বর্ণালি ছাত্র রাজনৈতিক জীবনের কিংবা যৌবনের আকাশ কাঁপানো জয় বাংলার উত্তাল স্লোগান আমাকে এখনও টানে ।
ভোরের কুয়াশা অন্ধকারে দূর্গাপুর গ্রামের দীঘির পাড়ে অবস্থিত সেই মাইকবিহীন গোলপাতা মসজিদের মোয়াজ্জিনের দাদার কণ্ঠে ফজরের আজানের ধ্বনি আমাকে এখনো নিয়ে যায় সেই শৈশবের কাদামাখা দিনগুলোতে। ভোরের মাইকবিহীন আজানের ধ্বনি আর ত্রিসন্ধ্যায় কাসা-শঙ্খ-ঘণ্টা আর উলুধ্বনি আমার কাছে এখন অসাম্প্রদায়িক। যেন ধর্ম-বর্ণ হিংসা-বিদ্বেষহীন একটি অসাম্প্রদায়িক পৃথিবী গড়ার ডাক। মানে অসাম্প্রদায়িক প্রিয় বাংলাদেশ।
যাযাবর জীবনে প্রায় ৭ বছরের মধ্যে ৭বছর ধরে খুব বিশ্বস্ততার সঙ্গে একই প্রতিষ্ঠানে কাজ করছি। ৭ বছর একই প্রতিষ্ঠানে চাকরি করা কম কথা নয়। এ দেশে এক নাগাড়ে দীর্ঘ কয়েক বছর একই প্রতিষ্ঠানে কাজ করা মানেই সুনাম ও বিশ্বস্ততার প্রতীক। শুরু করেছিলাম খুবই কষ্টে। কাজটি কঠিন ও কষ্টের হলেও ক্রমান্বয়ে প্রতিষ্ঠানের সর্বোচ্চ পদের দায়িত্ব যাওয়ার ইচ্ছা আছে সুনামের সঙ্গে।
তৃতীয় বিশ্বের এক অজ পাড়া গায়ের সন্তান হিসেবে ও বহু মাতৃক বাংলা আর ইংলিশ ভাষার জাঁতাকলে আমি? এখানে আমার চাকরির কোনো নিশ্চয়তা যেমন নেই তেমনি যে যার খুশি মতো কাজ ছাড়তে পারে, ধরতে পারে এবং কাজ বদলাতে পারে। কাজের শ্রেণি বিন্যাস থাকলেও কে কোন কাজ করছে তা নিয়ে কারও মাথা ব্যথা নেই। সবার টাকা দরকার। তাই কাজের প্রয়োজন। কাজ থাকলে আনন্দমুখর পরিবেশে পরিবারপরিজন নিয়ে সুন্দরভাবে সংসার চালানো। যায় ফলে একজন ভালো চাকরিজীবীরও বাড়তি আয়ের জন্য অন্য কাজ করতে দ্বিধাবোধ নেই আজ। এখানে ছোট-বড় কাজ বলতে কিছু নেই।এখানে ফুটপথের হকারেরও আছে ১০তলা বাড়ি ৮/১০টা গাড়ি, চিকিৎ​সক–প্রকৌশলী, রেস্টুরেন্টের বয়, হেলপার, সরকারি চাকরিজীবী থেকে ঝাড়ুদার সবই আজ মিলেমিশে একাকার আমাদের রাজধানী ঢাকা শহর। যেকোনো কাজ করলে লজ্জা নেই, না থাকলেই লজ্জা।
আমরা সব সময় স্মৃতিঘেরা মানুষ। স্মৃতিকে চোখের সামনে এনে ভাবতে কতই না ভালো লাগে। আমরা তো প্রতিদিনের স্মৃতি নিয়েই চলছি অবিরত দিনের পর দিন। ধাবমান সময় ক্রমান্বয়ে হারিয়ে যাচ্ছে জীবন থেকে। শৈশব-কৈশোর, যৌবন থেকে বার্ধক্যের দিকে এগিয়ে যায় সবাই। প্রতিদিন গুচ্ছ গুচ্ছ স্মৃতি শুধু জমা হয় জীবনের খাতায়। ফেলে আসা স্মৃতি প্রতিটি মানুষকেই কোনো না কোনো সময় নিজের অজান্তেই কাদায় ভাবিয়ে তুলে। সময়ের স্রোতে ভাসতে ভাসতে সুখ দুঃখ আনন্দ বেদনা রাগ অভিমান চাওয়া পাওয়া সবকিছুই তো জীবন যাপনের নিত্যসঙ্গী হয়ে স্মৃতির ভান্ডারে জমতে থাকে।
গ্রাম মানে আমার প্রিয় জন্মভূমি-মাতৃভূমি-পিতৃভূমি-প্রিয় স্বজন ঘেরা চিরচেনা জনপদে ফিরব মানেই প্রকৃতির কাছে ফিরব। প্রিয় চেনা নিসর্গের দুর্বার আকর্ষণ আমাদের টেনে নিয়ে যায় গ্রামের প্রকৃতির কাছে। প্রকৃতির কাছে ফেরা মানে আমাদের আদিতে ফেরা, শেকড়ের মমতায় ফেরা, মাটির কাছে ফেরা, অরণ্যের কাছে ফেরা, সবুজের কাছে ফেরা, মমতাময়ীর কাছে ফেরা স্বজনের কাছে ফেরা, মার আঁচলে বাঁধা স্নেহ মমতা আদরের কাছে ফেরা। স্বপ্ন-সত্য আর সুন্দরের কাছে ফেরা।
অনেক দিন পর ফিরব, বাড়ি দেখব, স্বজনের সঙ্গে কটি সপ্তাহ কাটিয়ে আসব সুখ দুঃখের অংশীদার হয়ে, ঢাকায় দূষিত শহরে জন্ম নেওয়া এবং এ গ্রামের মাটি আবহাওয়া ও সংস্কৃতি তে বড় হয়ে ওঠা সন্তানরা দেখবে পিতৃপুরুষের মাটি, সে কী আনন্দ। যদি এই ৭ বছরে অনেককেই হারিয়েছি। অনেক কিছুই হারিয়ে ফেলেছি। বয়সের সঙ্গে সঙ্গে স্মৃতির ভান্ডারটাও দিনে দিনে ক্ষীণ হয়ে আসছে তবুও ফেলে আসা শৈশব আর কৈশোরের সোনামাখা স্মৃতিগুলো আমাকে এই শহরে বারবার তাড়িত করে নিয়ে যায় সেই দিনগুলোর মাঝে অতীত বিন্যাসে।

লেখক: মোঃ শাহ্ জালাল
(কবি, সাংবাদিক, কলামিষ্ট)
ছবি : অধ্যাপক শফিয়ার রহমান
(বিশিষ্ট কলামিষ্ট, সাহিত্যিক, রম্য রচ্য ও গবেষক)


এ খবর টি সোস্যাল মিডিয়াতে এ পোষ্ট করুন

এ জাতীয় আরও খবর




© All rights reserved © 2013-2022