1. admin@manirampurprotidin.com : admin :
  2. hnurul146@gmail.com : nurul :
  3. titonews24@gmail.com : Tito :
শিরোনাম :
হাইকোর্টের নির্দেশে কেশবপুরে অবৈধ “রোমান ব্রিকস” ভেঙ্গে দিল প্রশাসন মাদ্রিদে হবিগঞ্জবাসীর মিলন মেলায় মুখরিত লাভপিয়েছ মণিরামপুরের জুড়ানপুর বালিকা বিদ্যালয়ের সহকারী প্রধান শিক্ষককে হাজিরা খাতায় স্বাক্ষরে বাঁধা মালিতে জাতিসংঘ শান্তিপদক পেলেন বাংলাদেশের ১৩৯ জন শান্তিরক্ষী কেশবপুর উপজেলা চেয়ারম্যানকে হত্যার হুমকির প্রতিবাদে মানববন্ধন ও বিক্ষোভ মণিরামপুরে সাংবাদিক পুত্র মাহির গোল্ডেন জিপিএ-৫ লাভ মণিরামপুরে ইকবালকে কমিটি গঠন কার্যক্রম থেকে বিরত থাকার নির্দেশ : রোহিতার আহ্বায়ক বহিষ্কার মণিরামপুরে ২দিন ব্যাপি ডিজিটাল উদ্ভাবনী মেলার শুভ উদ্বোধন মণিরামপুরে গ্রাম ডাক্তারের ভুল চিকিৎসায় স্কুল ছাত্রীর হাতে পঁচন ।। আদালতে মামলা মণিরামপুরে সাবেক অধ্যক্ষ মাওলানা বজলুর রহমানের ইন্তেকাল

খাবারের খোঁজে কেশবপুরের কালোমুখী হুনুমান এখন মনিরামপুর পৌর শহরে

  • আপডেট: মঙ্গলবার, ২৮ এপ্রিল, ২০২০
  • ৪৩৩ দেখেছেন

শাহ্ জালাল, নিউজ ডেস্ক।।
দেশের অন্য কোথাও খুব একটা দেখা না গেলেও যশোরের কেশবপুরে প্রায় ৪০০ হনুমান বাস করে। কেশবপুরের ভবঘুরে প্রজাতির কালোমুখী হনুমান। বাঙালিদের কাছে নতুন করে পরিচয় করে দেবার মত কিছু নয়। মানুষ জেনে গেছে। এমনকি এসব হনুমানের কথা বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্তে পৌঁছে গেছে। বর্তমানে শ্রীরামচন্দ্রের ঘনিষ্ঠ অনুচর এককালের ‘গ্রেট মাঙ্কি’ বলে খ্যাত লংকা বিজয়ী বীর হনুমান কালের আবর্তে আজ বিলুপ্ত হতে চলেছে। প্রজাতি বিলুপ্তির ধারাবাহিকতায় ইতোমধ্যে বাংলাদেশ থেকে ৩০ প্রজাতির স্তন্যপায়ী প্রাণী বিলুপ্ত হয়ে গেছে। আরও ১৮টি প্রজাতি বিলুপ্ত হতে চলেছে।
গত কয়েকশ’ বছর যাবৎ যশোরের কেশবপুর সদর ও পার্শ্ববতী এলাকার ১০-১৫ কিলোমিটার এলাকা জুড়ে বিরল প্রজাতির এই হনুমান বসবাস করছে। বেসরকারি সংস্থা পিসের হিসেব মতে, বর্তমানে ওই এলাকায় ৪০০ও অধিক হুনুমান রয়েছে। কিন্তু বর্তমান দেশান্তরী হচ্ছে এই কালোমুখী হুনুমান কেশবপুর থেকে। গতো কয়েক দিন ধরে দেখা যাচ্ছে কেশবপুরের পাশের উপজেলার মনিরামপুর পৌর শহরের মোহনপুর গ্রামে প্রায় ২০/২৫ টি হুনুমান বসবার করছে। মোহনপুর এলাকার বসবাস রত শুকান্ত ঘোষ টফি বলেন আমার ধারণা কোভিড-১৯ তে তারা মূলত খাদ্য অভাবে এলাকা ছেড়ে আমাদের এলাকায় চলে এসেছ। এলাকার অনেকে তাদের দেখতে এসে খেতে দিচ্ছে। তবে তুলনামূলক কম। শুকান্ত ঘোষ টফির কথার সূত্রধর ফোনে যোগাযোগ করার চেষ্ট করলাম কেশেবপুরের স্থানীয় সংবাদমাদ্যম কর্মীদের সাথে। কথা হয় সেখানকার কয়েক জন গণমাধ্যম কর্মীর সাথে। তাদের ভাষ্যমতে কভিড-১৯ সংক্রমণ রোধে চলছে দেশব্যাপী লকডাইন তাই দেখা দিয়েছে খাদ্য সংকট।
কেশবপু উপজেলা প্রশাসনের মাধ্যমে হুনুমানদের যে খাদ্য বরাদ্দ তা মোটেও যতেষ্ট নয়। কিন্তু তারা এতোদিন খাদ্য সংকটে কিভাবে বেচঁছিল জানতে চাইলে তার জবাবে বলেন যখন লকডাউন ছিলনা তখন কেশবপুর বাজারের সাহাপাড়া, পশু হাসপাতাল, উপজেলা অফিস, শ্রীগঞ্জ বাজার, ব্রহ্মকাঠি, রামচন্দ্রপুর প্রভৃতি এলাকা হনুমানদের বিচরণক্ষেত্র গুলোতে জনসাধারণে চলাচল ছিল সাভাবিক। অনেকে খুশি হয়ে কলা, রুটি, বাদাম, বিস্কুট, ও অন্যঅন্য ফলফলাদি কিনে খেতে দিতেন। এবং প্রতিদিনের পাশের উপজেলা গুলো থেকে বিভিন্ন কাজে আসা জনসাধারণের অনেকে এক নজর হুনুমান দেখতে আসতেন কিছু খাদ্য সামগ্রী কিনে। কিন্তু লকডাউনের ফলে সবকিছু বন্ধ থাকায় হুনুমান হয়েছে সেই সব দর্শনার্থীদের খাদ্য থেকে বঞ্চিত। ফলে দেখা দিয়েছে প্রচুর খাদ্য সংকট। তাই তারা এলাকা থেকে আশ পাশের এলাকায় খাদ্যর সন্ধানে ছুটে চলেছেন। এবং একই সাথে কেশবপুরে হুনুমানের আশ্রয়, প্রতিকূল আবহাওয়া ও বৈরী পরিবেশের শিকার হয়ে বিলুপ্তির চরম শিখরে চলে এসেছে এরা। অথচ নিকট অতীতেও এই হনুমানগুলো বাংলাদেশের জীববৈচিত্রের প্রতীক হিসেবে বিবেচিত হতো।
তারা আরো বলেন ৩৫ থেকে ৪০ বছর আগে প্রায় ৫ সহস্রাধিক হনুমান কেশবপুরের গ্রামাঞ্চলে গাছে, ডালে, জঙ্গলে নির্ভয়ে চলাচল করতো। কিন্তু এই সংখ্যা এখন ৪/৫ শ’তে নেমে এসেছে। বিলুপ্তির এ হার অব্যাহত থাকলে বাংলাদেশ থেকে এই প্রজাতি অদূর ভবিষ্যতে হারিয়ে যাবে। বেশ কিছুদিন থেকে এখানকার হনুমানগুলো দেশান্তরী হতে শুরু করেছে। হনুমান এক সময় যে পরিবেশে বাস করত, বংশ বৃদ্ধির প্রক্রিয়া চালাত তা এখন আর অবশিষ্ট নেই। তাই এই হনুমান খাদ্যের অভাবে জীবন বাঁচানোর তাগিদে দেশান্তরী হচ্ছে। এক সময় কালোমুখী হনুমানগুলোর জন্য এ অঞ্চলে প্রচুর ফলজ ও বনজ বৃক্ষ ছিল। প্রজননকালীন সময় এবং গর্ভকালীন আশ্রয়ের জন্য প্রাকৃতিকভাবে সৃষ্টি প্রাচীন সমবটবৃক্ষে পরিপূর্ণ ছিল এ এলাকা। বর্তমানে মানুষের অপরিণাদর্শী কর্মকান্ডে হনুমানকুল আশ্রয়হীন ও বিপন্ন হয়ে পড়েছে। এতে বংশ বিস্তার হ্রাস পেতে পেতে হনুমানের সংখ্যা হাতে গোনার পর্যায়ে চলে এসেছে।
জীবনযাপন ও আচার-আচরণ গত দিক লক্ষকরে দেখা গেছে বর্তমান হুনুমানদের নানা সমস্য প্রকট আকার ধারণ করেছে। এই অবস্থায় এসব হনুমানের বংশ বিস্তার কমতে শুরু করেছে। চাহিদা অনুযায়ী খাবার না পেয়ে তারা ক্রমেই হিংস্র হয়ে উঠে। তখন তারা ফসলের ক্ষেত বা ফলবাগানে হামলা চালিয়ে ক্ষতিগ্রস্ত করে ফেলে।


এ খবর টি সোস্যাল মিডিয়াতে এ পোষ্ট করুন

এ জাতীয় আরও খবর




© All rights reserved © 2013-2022