1. admin@manirampurprotidin.com : admin :
  2. hnurul146@gmail.com : nurul :
  3. titonews24@gmail.com : Tito :
শিরোনাম :
অল ইউরোপিয়ান বাংলা প্রেসক্লাবের ভার্চুয়াল সাধারণ সভা অনুিষ্ঠত : অভিষেকের প্রস্তুতি হাইকোর্টের নির্দেশে কেশবপুরে অবৈধ “রোমান ব্রিকস” ভেঙ্গে দিল প্রশাসন মাদ্রিদে হবিগঞ্জবাসীর মিলন মেলায় মুখরিত লাভপিয়েছ মণিরামপুরের জুড়ানপুর বালিকা বিদ্যালয়ের সহকারী প্রধান শিক্ষককে হাজিরা খাতায় স্বাক্ষরে বাঁধা মালিতে জাতিসংঘ শান্তিপদক পেলেন বাংলাদেশের ১৩৯ জন শান্তিরক্ষী কেশবপুর উপজেলা চেয়ারম্যানকে হত্যার হুমকির প্রতিবাদে মানববন্ধন ও বিক্ষোভ মণিরামপুরে সাংবাদিক পুত্র মাহির গোল্ডেন জিপিএ-৫ লাভ মণিরামপুরে ইকবালকে কমিটি গঠন কার্যক্রম থেকে বিরত থাকার নির্দেশ : রোহিতার আহ্বায়ক বহিষ্কার মণিরামপুরে ২দিন ব্যাপি ডিজিটাল উদ্ভাবনী মেলার শুভ উদ্বোধন মণিরামপুরে গ্রাম ডাক্তারের ভুল চিকিৎসায় স্কুল ছাত্রীর হাতে পঁচন ।। আদালতে মামলা

ভয় : পর্ব – ২

  • আপডেট: বৃহস্পতিবার, ৩০ এপ্রিল, ২০২০
  • ৩৫৭ দেখেছেন

মোঃ মনিরুজ্জামান।।
একবার সুদান মিশনেই মৃত্যুমুখে পড়েছিলাম জাতিসংঘের সরকারী কাজে সেক্টর হেডকোয়ার্টার্স থেকে ১০০ কিলোমিটার দূরের kWAJK নামক জায়গাতে গিয়েছিলাম সুদান পুলিশের ট্রেনিং একাডেমী তৈরীর সম্ভাব্যতা যাচাই এর জন্য। আমি তখন রিজিওনাল ট্রেনিং কো-অডিনেটর। সংগী ছিলেন আমার সেক্টর কমান্ডার আমেরিকান এক লেডি সহ উর্দ্ধতন কর্তৃপক্ষের একটি গ্রুপ। আমার সাথে বাংলাদেশী একজন অবসর প্রাপ্ত মেজর সাহেব ( যিনি তখন জাতিসংঘের সিভিল প্রশাসনে কর্মরত) ও ছিলেন। আমাদেরকে ওখানে রাত্রিযাপন করতে হয়েছিল। যে এলাকায় আমরা গিয়েছিলাম ওটি ছিল আমাদের সেক্টর হেডকোয়ার্টার্স হতে প্রায় ১০০ কিঃ মিঃ দূরে। আমরা দিনে গিয়ে দিনেই ফিরে আসব মনস্থির করে ভোর রাতেই রওনা হয়েছিলাম। বৈরী আবহাওয়ার কারনে ল্যান্ড স্লাইড হয়ে চলাচলের ট্র্যাকে ফাটল ধরায় আমরা ফিরতে পারিনি। রাত্রি যাপন করতে হয়েছিল স্থানীয় পুলিশের ব্যবস্থাপনায়। জায়গা হয়েছিল বেসরকারী একটি গেষ্ট হাউজে।
গেস্ট হাউজ মানে মাটির মেঝে বাঁশের বেড়া ওপরে খাড়ের ছাউনি। শুনতে যতটা রোমান্টিক মনে হচ্ছে বাস্তবে তার সম্পূর্ণ বিপরীত। টেম্পারেচার ৪৫ ডিগ্রী, বিদ্যুত নাই। সন্ধ্যা বেলা কোন রকমে অল্প শক্তির জেনারেটারে একটি আলো টিম টিম করে চলে। জেগে থাকা পর্য্যন্ত গাড়ীর হেড লাইটের আলোয় আমরা আমাদের অস্থায়ী নিবাসকে একটু আলোকিত করে রাখার চেষ্টা করতাম। জায়গাটি বিরোধপূর্ণ। বিবাদমান দুটি গ্রুপ দুই স্বঘোষিত জেনারেলের নেতৃত্বে প্রায়ই এ ওর এরিয়ায় হানা দেয়।
আমরা যে দিন পুলিশ একাডেমী প্রতিষ্ঠার উদ্দেশ্যে ওখানে গিয়েছিলাম কাকতালীয় ভাবে তার আগের দিন ওদের দুগ্রুপে এক রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষ হয়। ওখানে সংঘর্ষ মানেই শতখানেক লোক অন্তত: গোটা পঞ্চাশেও একে ৪৭ এর মত স্বয়ংক্রিয় অস্ত্র নিয়ে শত্রু বসতিতে হানা দিবে। উদ্দেশ্য ৩টি। প্রাপ্ত বয়স্তক পুরুষদেরকে হত্যা করা। ১২ হতে ৫৫ বছরের নারীদের যতটা সম্ভব ধরে নিয়ে এসে সেক্স স্লেভ বানানো এবং যতটা সম্ভব গরু এবং অস্ত্র লুট করে আনা। আক্রান্ত পক্ষও সুবিধাজনক সময়ে একই কাজ করে থাকতো। এটাই ওখানকার বিধি। যাহোক আমরা যেদিন ঐ এলাকায় যাই তার আগের দিন রাতে এরকম একটি দখল দারিত্বের ঘটনা ছিল। এটা আমাদের জানা ছিলনা। কাজেই যথাযথভাবে Security ক্লিয়ারেন্স নিয়েই আমরা যাত্রা করি। আক্রান্ত গ্রুপ কৌশলে প্রচার করে দেয় যে, জাতিসংঘ বাহিনী তাদের উপর হামলার তদন্ত ও বিহিত করতে ঐ এলাকায় ক্যাম্প করেছে এবং তারা ঐ রেস্ট হাউজে থাকবে। আমরা জাতিসংঘের ৫/৬টি উইং যথা ইন্টেলিজেন্স, পুলিশ, সিকিউরিটি, মিলিটারি, ডেভেলপমেন্ট থেকে কর্মকর্তা গিয়েছি। প্রত্যেক উইং এর আলাদা গাড়ী। এছাড়া প্রটেকশন সব মিলিয়ে ১০/১২ টা ইউএন জিপ। এসব দেখে প্রতিপক্ষ মনে করেছে এটি জাতিসংঘ বাহিনীর এডভান্স পার্টি, পরে হয়তো বাকী বাহিনী যোগ দিবে। আক্রমনকারী পক্ষের নেতা স্বঘোষিত হলেও একজন জেনারেল।
গাড়ীর আলো জেনারেটরের আলো নিভিয়ে স্থানীয় পুলিশের ব্যবস্থাপনায় পাহাড়ী চিকেন এর ডিনার খেয়ে ঘুমানোর প্রস্তুতি নিচ্ছি। মরুভূমিতে রাত বাড়ার সাথে ঠান্ডাও পড়তে থাকে। ঘুমিয়ে আরাম। সারা দিনের ক্লান্তি আর পাহাড়ী মুরগীর স্বাদ নিয়ে আমি আর আমার রুমমেট বাংলাদেশেী মেজর সাহেব টুকুলের (স্থানীয় ভাষায় কটেজকে টুকল বলা হয়) জানালার ধারে ঠান্ডা বাতাসে উনার অফার করা বেনশনের শলাকায় আগুন দিয়ে কেবল প্রথম টান টা দিয়েছি এমনি সময় শুরু হল স্বয়ঃক্রিয় অস্ত্রের গোলাগুলি। মেজর সাহেব অবসর প্রাপ্ত হলেও আর্টিলারির লোক। গুলির শব্দ বোঝেন। আমি মিশনে নবীন কিন্তু উনি জাতিসংঘের পার্মানেন্ট স্টাফ হওয়া দীর্ঘ দিনের অভিজ্ঞতা। বললেন মনির ভাই ভাব ভালনা।আমরা তো লড়তে যাইনি, ডেভেলপমেন্ট কাজে গিয়েছি। ামাদের লড়ার প্রস্ততিও নাই।বাঁচতে হলে ভাগতে হবে। উনি বললেন এ এলাকায় আমি আগেও এসেছি । রেস্ট হাউজের পিছনে জংগল, মাইল খানেক জংগল পেরুলেই একটি চার্চ আছে। চার্চে তার এক পরিচিত স্টাফ আছে। ওখানে গিয়ে বা জংগলে আশ্রয় নেয়া যেতে পারে। সকালের মধ্যে জাতিসংঘের উদ্ধার দল আসবে। ততক্ষন পর্য্যন্ত নিজ দায়ীত্বে বেঁচে থাকতে হবে। কমান্ডারের সাথে যোগাযোগ করলাম, মোবাইল নেটওয়ার্ক নেই, V SAT-এ ভীতু কাপা কাপা গলায় জিজ্ঞেস করলেন মনির কি করবো বলতো?
ভাবলাম যা শালা। এ তো দেখি আমার উপর ভরসা করে বসে আছে। কেউ যখন বিশ্বাস করে আশ্রয় চায় তখন নিজের সামর্থ্য থাক বা না থাক তাকে আশ্বাস দিতে হবে। শেষ পর্য্যন্ত চেষ্টা করতে হবে এটাই নিয়ম,এটাই পুলিশ একাডেমীরশিক্ষা। ওকে বললাম চিন্তা কোরোনা, একটা ব্যবস্থা হবে। আমার পাশের টুকুলেই ছিল হেডকোয়ার্টার্স থেকে আসা একজন স্থানীয় পুলিশ কর্মকর্তা ও আমাদের দোভাষী আবদেল হানেফ। হানেফ কেনিয়া নাইরোবি বিশ্ববিদ্যালয় থেকে পোস্ট গ্রাজুয়েট করে ইউ এন এর দোভাষী হিসাবে কাজ করে। তার সাথে আমার অদ্ভুত এক হৃদ্যতা ছিল। সদা হাস্যোজ্জল বিনয়ী কালো লম্বা এই ছেলেটির সাথে আমার অনেক স্মৃতি। আরেক দিন হয়তো লিখবো ওকে নিয়ে সময় সুযোগ পেলে। দুনিয়াতে ওর কেউ নেই। খার্তুমের এক অনাথ আশ্রমে মানুষ। সেখান থেকেই নিজ যোগ্যতায় বেড়ে ওঠা। সংগত কারনেই তেমন পিছু টানও নেই। মাথা অত্যন্ত ঠান্ডা। ওকে আর স্থানীয় পুলিশ কর্মকর্তা নূরকে ডাকলাম আমাদের টুকলে। সারভাইভাল প্লান নিয়ে বসলাম। জংগল পথে পালানোর আইডিয়া বাদ দিলাম কারন তা অনিশ্চিত, মারা গেলে লাশও মিলবেনা। এখানে মারা গেলে ইউ এন অন্তত তার প্রভাব খাটিয়ে লাশ জোগাড় করে দেশে পাঠাবে। যাহোক হানেফ বললো আক্রমনকারী গোত্র সম্পর্কে ধারনা পাওয়া গিয়েছে। কারন তারা লজের গেইটে এসে উচ্চঃস্বরে অপর পক্ষের প্রতি পক্ষপাতিত্বের জন্য কটু বাক্য বিস্ফোরন করছিল। আমি যেহেতু ট্রেনিং কো অডিনেটর আমার গাড়ীতে সব সময় ট্রেনিং ম্যাটেরিয়াল হিসাবে হ্যান্ড মাইক থাকতো। ভাগ্যক্রমে আমার গাড়ীটা পার্ক করা ছিল। আমার টুকুলের পিছনে অর্থাৎ গেটের উল্টা দিকে।
হানেফকে চাবি দিলাম। ও নি:শব্দে গিয়ে হ্যান্ডহেলার নিয়ে আসল। স্থানীয় ভাষায় ওর পরিচয় দিয়ে কথা বলার অনুমতি চাইল। অনেকক্ষন বাতচিতের পর তারা ওর কথা মানল। কথা বলার অনুমতি পেল। শর্ত হল দুহাত উচু করে গেটে যেতে হবে একা। আমরা দোটানায় পড়ে গেলাম কমান্ডারের সাথে আলাপ করলাম। তিনি কোন ডিসিশন দিলেন না অনেকটা যা ভাল বোঝো করো টাইপ। হানেফ ইউএন ব্যুরোক্রাসি ভাল বোঝে। ও বলল আমি আমি নিজ দায়ীত্বেই যাচ্ছি। আর আমি যেহেতু সুদানিজ আমাকে ওরা মারবেনা এমনকি অপহরনও করবে না। কারন ওরা জানে লাভ নেই। যাহোক হানেফ হাসি মুখেই গেল। ওর ভাষায় কথাবার্তা বলে বোঝাল যে, তাদের তথ্য সঠিক নয়। প্রমান হিসাবেও পুলিশ একাডেমী ভিজিটের স্বপক্ষে স্থানীয় দুজন পুলিশ কর্মকর্তাকে সাক্ষী মেনে তাদের সাথে কথা বলার পরামর্শ দিল এবং ইউএন এর টিমটি যে, ঘটনাক্রমে ওখানে রাত্রিযাপন করছে সে কথা বোঝাল। কর্তৃপক্ষের কাছে ওরা জানাল এবং যখন দেখলো যে আমাদের জন্য লজে সকালের নাস্তারও কোন ব্যবস্থা নেই জেনারেটরের তেল নেই ইত্যাদি ইত্যাদি তখন তারা তাদের তথ্য যে ভুল তা বুঝতে পারলো এবং নির্লজ্জের মত দাঁত কেলিয়ে একসাথে সিগারেট খেয়ে সরিটরি বলে বিদায় নিল। আমরাও পাততাড়ি গুটালাম, চলে আসলাম নিজ ডেরায়।
সুদান মিশনের অনেক স্মৃতি। সবগুলি রিজিওন আবার এক রকম না। খার্তুমে যখন ছিলাম মোর আর লেস ঢাকার মতই লাইফ। বাট প্রত্যন্ত মরুভূমিতে লাইফ ভিন্ন রকম। ওয়াও, আওয়েল, রুমবেক,কাদুগলি এসব অঞ্চলে রাখালরা গরু চরায় কাঁধে একে ৪৭ নিয়ে। রাইফেল টিকে কাধে বাঁকের মত ঝুলায়, একপাশে টুকরিতে বাধা রুটি বা সামান্য খাবার, আর এক পাশে পানি, দুধ বা লোকাল ওয়াইন এর বোতল। রাইফেল কিন্তু ডামি না অরিজিনাল, সাথে গুলিও আছে।
মরুভূমির পথে গাড়ী চললে ধুলা ওড়ে এটাই স্বাভাবিক কোন কারনে কোন বেরসিক রাখাল ইউএন এর গাড়ীর ধুলায় বিরক্ত হয়ে গাড়ীর টায়ার লক্ষ্য করে ধাম ধাম করে ‘ক’ রাউন্ড ঝেড়ে ফেলেছে এ সংবাদ ছিল নিত্য দিনের। এজন্য ইউএন সিকিউরিটি থেকে নির্দেশনা থাকত জন চলাচলের স্থানে গাড়ী এমন গতিতে চালাতে হবে যাতে করে রাস্তায় ধুলো না ওড়ে।
দেশ এখন করোনা কাল অতিক্রম করছে। আমার সহকর্মীদের অনেকেই ইতিমধ্যে আক্রান্ত। আমার পারসোনাল স্টাফদের মধ্যেও সংক্রমন হয়েছে। তাদের ভয়, আতঙ্ক কাছ থেকে দেখছি। সে ভয়ের একটা অংশ আমাকেও গ্রাস করেছে। কারন পরিবারের সদস্যদের সংক্রমিত হওয়ার ভয়। এ ভয় নিয়েই লিখব মন স্থির করেছিলাম। ইতিমধ্যেই অনেক বড় হয়ে গিয়েছে। মন ভাল থাকলে আর এক পর্ব লিখবো এ প্রত্যাশা করে শেষ করছি।
(একান্ত নিজস্ব অভিজ্ঞতা।স্হান,কাল,পাত্র,নাম সহ অনেক কিছুই কাল্পনিক সংগতকারনেই।মিলে গেলে তা নিছক কাকতালীয় এবং অনিচ্ছাকৃত)
চলবে……

লেখক:
অতিরিক্ত ডিআইজি
এন্টি টেরোরিজম ইউনিট
বাংলাদেশ পুলিশ


এ খবর টি সোস্যাল মিডিয়াতে এ পোষ্ট করুন

এ জাতীয় আরও খবর




© All rights reserved © 2013-2022