ঢাকাসোমবার , ১১ মে ২০২০
আজকের সর্বশেষ সবখবর

জীবন ও জীবনের বাস্তবতা

Tito
মে ১১, ২০২০ ৬:২৬ অপরাহ্ণ
Link Copied!

মোঃ শাহ্ জালাল।।
জীবনের বাস্তবতা বড়ই নিষ্ঠুর। এটাই তো জীবন। জীবনের বাস্তবতার বড় বৈশিষ্ট্য হচ্ছে, যতই নিষ্ঠুর হউক বা যতই কষ্ট হউক তা সয়ে নিতে হয়, মেনে নিতে হয় জীবনের প্রয়োজনেই। জীবনে কষ্ট আসলে মানসিক ভাকে যতটুকু ভেঙ্গে পড়বে জীবন তার দ্বিগুন পিছিয়ে যাবে। জীবনের সকল দূঃখ কষ্ট ও বাস্তবতাকে জীবনের অংশ হিসাবে মেনে নিয়ে স্বাভাবিক ভাবে গ্রহন করার নামই হচ্ছে সুখ। জীবনের বৈশিষ্ট্য হচ্ছে , সে কখনও এক পথে চলেনা। মানুষের প্রত্যাশা অনুযায়ী চলেনা। জীবনের এই বৈশিষ্ট্যকে যারা মেনে নিতে পারেনা তারাই হতাশ জীবন যাপন করে। যারা মেনে নিতে পারে তারাই সুখী ।
আমি জানিনা কী সে প্রয়োজন। জীবনের কোথায় যেন কিসের একটা অদৃশ্য টান। আমার অনুপস্থিতিতে সব চলবে যথারীতি। তারপরও মনে হয় আমিই যেন সব সমস্যা সমাধানের একমাত্র ভরষা। মনে হয়, আমি ছাড়া সমস্যা সমাধানের আর কেউ নাই। আমাকে ছাড়া ? অসম্ভব। এই মনে করে বলেই হয়তো হাজার যন্ত্রনা সয়ে বেঁচে থাকা। জীবনের অত্যাশিত বাস্তবতা কি যে কঠিন তা বোধ হয় মানুষ মাত্রই বুঝেন। আপনার মা আপনার এতই প্রিয় যে, এক মুহুর্ত চোখের আড়াল করেননি। কিন্ত একদিন হয়তো দেখা গেল আপনারই কোলে শুয়ে আপনার মা পৃথিবী থেকে বিদায় নিল। আপনি কি তা ভূলেও কোন দিন প্রত্যাশা করেছিলেন ? তারপরও কিন্ত স্বভাবিক ভাবে বেঁচে আছেন। থাকতে হবে, থাকতে হয়।
আমার এক বন্ধুরকথা বলি। নাম মুকুল, বিবাহিত । বাবা হতে যাচ্ছে। স্ত্রী রীজিয়া সরকারী চাকুরী করে বিধায় মুকুল এই অবস্থায় ঢাকার মিরপুরে বিলাসী বাসা নিয়ে থাকেন। একদিন বিকালে হঠাৎ মুকুলের বাবা ষ্টোক করে। হাসপাতালে ভর্তি হয়। সেদিন মুকুল কে খুব পরিশ্রম করতে হয়েছে, কারণ মুকুলের কোন ভাই নাই। সাড়ে সাত মাসের গর্ভবতী স্ত্রী রীজিয়া সন্ধ্যায় অসুস্থ হয়ে পড়ে। ভর্তি হতে হয় সেন্ট্রাল হাসপাতালে। ডাক্তার জানায়, জরুরী ভিত্তিতে সীজার না করলে মা ও সন্তান দুজনের জন্যই বিপদ হতে পারে। মুকুল স্ত্রীর সীজার করাতে রাজি হয়ে য়ায়। পরদিন যে সময় স্ত্রীর সীজার তার আগ মুহুত্বে সংবাদ পায় মুকুলের বাবা মারা গেছেন। দুপুরের পরে রীজিয়ার সীজার হবে। মুকুল দিশেহারা হয়ে যায়, এখন সে কি করবে? কোথায় যাবে ? ভাইহীন মুকুল বাবার লাশ দেখতে হাসপাতালে ? নাকি নিজের স্ত্রী, সন্তানের কাছে? মুকুল হাসপাতাল থেকে নেমে চলে যায় লাশ সামলাতে। বাবার লাশ দেখে চিৎকার করে কাঁদতে থাকে মুকুল। কারণ মাত্র ১ মাস আগেই সে তার মাকে হারিয়েছে । নিজেকে সে অভিবাবকহীন, অসহায় ভাবছে। এক সময় তার বুকে ব্যথা উঠে এবং ঐ হাসপাতালেই ভর্তি করানো হয়। মুকুলের বাবার লাশ বের করতে সময় লাগে অনেক বেশী, কারণ ভর্তির ১ ঘন্টা পর নার্স ট্রলিতে করে একসাথে নিয়ে আসে মুকুলের বাবা ও মুকুলের লাশ। সীজার শেষে বিকাল নাগাদ রীজিয়া কিছুটা সুস্থ বোধ করে। দেখে পাশে তার সন্তান নাই। জানতে পারে ,অপরিপক্ক শিশু জন্ম হওয়ায় ইনকিবিউটরে রাখা হয়েছে। সন্ধায় পর নার্স এসে জানায় “ ডাক্তাররা অনেক চেষ্টা করেছিল! কিন্তু দুঃখিত”। একই দিনে রীজিয়া তার তিনটি আশ্রয় হারায়। শশুর, স্বামী, সন্তান। বিয়ের পর আমাদের সমাজে নারীর বেঁচে থাকার এই তিনটিই স্থান। রীজিয়া বেঁচে আছে। থাকবে। বাহির থেকে কেউ কি বুঝবে এই বেঁচে থাকার ভিতরকার রূপটি কেমন?? আমি জানিনা রীজিয়া কেমন করে বেঁচে আছে। কেন , কিসের আশায় বেঁচে আছে। তবু তাকে বেঁচে থাকতে হবে কষ্টের স্মৃতি নিয়ে। প্রতি বছর একই দিনে রীজিয়া তিনটি কবর জিয়ারত করে যে কবরে প্রতিটি বাসিন্দা তার এক একটা আত্মা। রীজিয়া বেঁচে আছে, এটাই হচ্ছে জীবন ও বাস্তবতা।

লেখক,
কবি, সাহিত্যিক ও সাংবাদিক

এই সাইটে নিজম্ব নিউজ তৈরির পাশাপাশি বিভিন্ন নিউজ সাইট থেকে খবর সংগ্রহ করে সংশ্লিষ্ট সূত্রসহ প্রকাশ করে থাকি। তাই কোন খবর নিয়ে আপত্তি বা অভিযোগ থাকলে সংশ্লিষ্ট নিউজ সাইটের কর্তৃপক্ষের সাথে যোগাযোগ করার অনুরোধ রইলো।বিনা অনুমতিতে এই সাইটের সংবাদ, আলোকচিত্র অডিও ও ভিডিও ব্যবহার করা বেআইনি।