1. admin@manirampurprotidin.com : admin :
  2. hnurul146@gmail.com : nurul :
  3. titonews24@gmail.com : Tito :
শিরোনাম :
হাইকোর্টের নির্দেশে কেশবপুরে অবৈধ “রোমান ব্রিকস” ভেঙ্গে দিল প্রশাসন মাদ্রিদে হবিগঞ্জবাসীর মিলন মেলায় মুখরিত লাভপিয়েছ মণিরামপুরের জুড়ানপুর বালিকা বিদ্যালয়ের সহকারী প্রধান শিক্ষককে হাজিরা খাতায় স্বাক্ষরে বাঁধা মালিতে জাতিসংঘ শান্তিপদক পেলেন বাংলাদেশের ১৩৯ জন শান্তিরক্ষী কেশবপুর উপজেলা চেয়ারম্যানকে হত্যার হুমকির প্রতিবাদে মানববন্ধন ও বিক্ষোভ মণিরামপুরে সাংবাদিক পুত্র মাহির গোল্ডেন জিপিএ-৫ লাভ মণিরামপুরে ইকবালকে কমিটি গঠন কার্যক্রম থেকে বিরত থাকার নির্দেশ : রোহিতার আহ্বায়ক বহিষ্কার মণিরামপুরে ২দিন ব্যাপি ডিজিটাল উদ্ভাবনী মেলার শুভ উদ্বোধন মণিরামপুরে গ্রাম ডাক্তারের ভুল চিকিৎসায় স্কুল ছাত্রীর হাতে পঁচন ।। আদালতে মামলা মণিরামপুরে সাবেক অধ্যক্ষ মাওলানা বজলুর রহমানের ইন্তেকাল

আলোচনা সমালোচনার মধ্য দিয়ে দেড় বছর পার করলেন সদ্য বিদায়ী ইউএনও আহসান উল্লাহ

  • আপডেট: রবিবার, ২৮ জুন, ২০২০
  • ৫৪৮ দেখেছেন

বিশেষ প্রতিনিধি।।
দেড় বছরের সফলতার পাশাপাশি প্রায় শেষ সময়ে নানা বিতর্ক জন্ম দিয়ে রোববার শেষ কর্মদিবস সমাপ্ত করলেন সদ্য বিদায়ী মণিরামপুরের উপজেলা নির্বাহী অফিসার আহসান উল্লাহ শরীফি। তার স্থলাভিশিক্ত হলেন সৈয়দ জাকির হাসান। আহসান উল্লাহ শরীফ সদ্য পদোন্নতি পেয়ে খুলনা জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক হিসেবে বদলী হয়েছেন।
বিভিন্ন সূত্রে জানা যায়, গত বছরের ফেব্রুয়ারী মাসে মণিরামপুরের ইউএনও হিসেবে যোগদান করেন সদ্য পদোন্নতিপ্রাপ্ত অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক আহসান উল্লাহ শরীফ। যোগদানের শুরুতেই তিনি বাল্য বিবাহ বন্ধ করতে তথ্যদাতাকে মোবাইলে ব্যালেন্স লোড দেওয়ার ঘোষনা দিয়ে আলোচনায় আসেন। কিছুদিন সে কার্যক্রম চলমান থাকলেও স্থানীয় রাজনৈতিক নেতৃত্বে নিজের অবস্থান সৃষ্টির লক্ষ্যে কৌশলে তাতে শিথলতা নিয়ে আসেন। ঘোষনা দিয়ে শুরু করলেও রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দের আস্থা অর্জনে তাদের সুপারিশে অঘোষিত ভাবে সে কার্যক্রম বন্ধ করে দেন। এমনকি রাজনৈতিক সুপারিশকারীদের নিকট গোপনে তথ্যদাতাদের নাম প্রকাশ করতে থাকেন। তাতে করে স্থানীয় চাঁপে পড়েন তথ্যদাতারা। একাধিক তথ্যদাতা জানান, তাদের এলকার বাল্য বিবাহ বন্ধে মোবাইলে ব্যালেন্সের আশায় নয়, বরং সামাজিক দায়িত্ববোধ হতে উপজেলা নির্বাহী অফিসারকে জানানোর কিছুক্ষণের মধ্যে স্থানীয় রাজনৈতিক নেতারা ওই সকল তথ্যদাতাদের নানা ভাবে হুমকি দিয়ে থাকে।
যোগদানের কয়েক মাস পর উপজেলা পরিষদের নির্বাচন সমাগত হলেই জুন মাসের এডিবি´র টাকায় উন্নয়নমূলক কাকরা নিয়ে সাবেক উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যানের সাথে বিতর্কে জড়িয়ে পড়েন। সূত্রমতে, এক পর্যায়ে কাজ ভাগাভাগি নিয়ে ইউএনো´র অস্বাভাবিক দাবি থাকায় সাবেক চেয়ারম্যানের চাপের মুখে তিনি এডিবির টেন্ডার না দিয়ে উন্নয়ন ব্যহত করতেো দ্বিধা করেননি।
পরবর্তীতে বিগত বিজয় দিবসের অনুষ্ঠানে সকল অফিসার, কতিপয় রাজনৈতিক ও স্থানীয় প্রভাবশালীদের একই রং´র ব্লেজার বানিয়ে দিয়ে আবারো বিতর্কের জন্ম দেন। স্থানীয় একাধিক দায়িত্বশীল ব্যাক্তি ওই সময়ে নীল ব্লেজার নিয়ে সোস্যাল মিডিয়াতে স্ট্যাটাস দেন। মূহুের্ত বিয়য়টা ভাইরাল হয়। সোস্যাল মিডিয়াতে অভিযোগ ওঠে স্থনীয় বিভিন্ন শ্রেণীর ব্যবসায়ীদের কাছ থেকে কৌশলে অর্থ হাতিয়ে নিয়ে ওই পোশাক তৈরী করেন। বিষয়টি বেশ চাউর হলে তিনি তা অফিসার ক্লাবের নামে চালিয়ে দিয়ে পার পেয়ে যান।
সম্প্রতি মণিরামপুরে কাবিখা প্রকল্পের চাউল পাচার কান্ডে উপজেলা পর্যায়ের দুই কর্মকর্তা জড়িত থাকার অভিযোগ উঠলেও তিনি নানা কৌশলে নিজেকে সেভ করেন। এঘটনায় ওই দুই কর্মকর্তার একজনকে ইতিমধে্য অন্যত্রে বদলি করা হয়েছে। তবে প্রচার রয়েছে চাউল পাচার কান্ডে সদ্য বিদায়ী উপজেলা নির্বাহী অফিসারের পরোক্ষ মদদ রয়েছে। এ বিষয়ে উচ্চতর তদন্ত করলে নেপথ্যের মুল কুশিলবরা ধরা পড়বে বলে স্থানীয়দের অভিমত রয়েছে।
এই চাউল পাচার নিয়ে উপজেলা চেয়ারম্যান নাজমা খানম বিভিন্ন মিডিয়াতে মুখ খুললে শুরু হয় বিপত্তি। স্থানীয় রাজনীতিতে শুরু হয় নয়া মেরু করন। সে সুযোগ কাজে লাগিয়ে সদ্য বিদায়ী উপজেলা নির্বাহী অফিসার স্থানীয় একটি পক্ষে পাল্লা জব্দ করে নিজের অবস্থান পাকাপোক্ত করেত চেয়ারম্যানের বিরুদ্ধে মাঠে নামেন। এক পর্যায়ে উপজেলা পরিষদ পরিচালনা আইন অমান্য করে চাউল কান্ডের বৈধতা দিতে নিয়িমত সভা আহ্বান করে আবারও বিতর্কের জন্ম দেন। এঘটনায় উপজেলা চেয়ারম্যান জেলা প্রশাসক বরাবর অভিযোগ দায়ের করেন। পরবর্তীতে তিনিও ক্রোধের বশবতী হয়ে ভিত্তিহীন অভিযোগ এনে উপজেলা চেয়ারম্যানের বিরুদ্ধে জেলা প্রশাসক বরাবর অভিযোগ দায়ের করেন। একটি বিশেষ রাজনৈতিক মহলের ইন্দনে উপজেলা চেয়ারম্যান নাজমা খানমকে হেয় করা এবং অপদস্থ করার খেলায় মেতে উঠে আবারো চরম সমালোচনার জন্ম দেন।
সর্বশেষ চলতি করোনা পরিস্থিততে তিনি আবারো আলোচনা সমালোচনায় আসেন। শুরুতে বিভিন্ন এলাকায় মোবইল কোর্ট পরিচালনা অভিযান এবং বাজার নিয়ন্ত্রন ও সামাজিক দূরত্ব রক্ষায় বেশ ভূমিকা রাখেন। সোস্যাল মিডিয়াতে প্রশংসার জোয়ারে ভাসতে থাকেন তিনি। সেটাকে বেগবান করার ঘোষনা দিয়ে তিনি একটি স্বেচ্ছাসেবক টীম গঠন করেন। এবার শুরু হয় আরেক বিপত্তি। সকল ইউনিয়নে স্বেচ্ছাসেবক কমিটি গঠন করেন। এই কমিটিতে স্থান পায় জামায়াত, শিবির ও বিএনপি নেতাদের সন্তান ও আত্মীয় স্বজনেরা। এতে সামাজিক সেবামূলক কাজে আওয়ামী পরিবারগুলোকে দুরে রাখার অভিযোগ তোলেন খোদ আওয়ামীলীগের একাধিক দায়িত্বশীল নেতা ও জনপ্রতিনিধি।
সার্বিক বিষয়ে একটি বিশেষ চাটুকার শ্রেণীর উষ্কানীতে নিজেকে বিলিয়ে দিয়ে সফলতার পাশাপাশি ব্যর্থতা আর সমালোচনার জন্মদিয়েই রোবরার মণিরামপুরের উপজেলা নির্বাহী অফিসার হিসেবে শেষ কর্মদিবসের সমাপ্তি টানেন আহসান উল্লাহ শরীফি। অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক হিসেবে খুলনাতে বদলির পর একটি নিদৃষ্ট পরিমন্ডল কর্তৃক সোস্যাল মিডিয়াতে অশ্রুিসক্ত বিদায় আবেগ প্রচার পেলেও সমাজের জ্ঞানী একটি পরিমন্ডলে স্বস্তি লক্ষ্য করা গেছে। স্থানীয় রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, মণিরামপুরের সরকারী দলের রাজনীতিতে সদ্য বিদায়ী উপজেলা নির্বাহী অফিসারের কৌশলে বপনকৃত অশান্তির বীজ কতদিনে বিলুপ্ত হবে তা সময়ও বলতে পারেনা।


এ খবর টি সোস্যাল মিডিয়াতে এ পোষ্ট করুন

এ জাতীয় আরও খবর




© All rights reserved © 2013-2022