ঢাকারবিবার , ৫ জুলাই ২০২০
আজকের সর্বশেষ সবখবর

মনিরামপুরে বিয়ের ১০ মাস পর গৃহবধুকে হত্যা ।। স্বামী পরিবারের সবাই পলাতক

Tito
জুলাই ৫, ২০২০ ৫:০৯ অপরাহ্ণ
Link Copied!

বিশেষ প্রতিনিধি।।
মনিরামপুরে বিয়ের মাত্র ১০ মাস পার হতে না হতেই স্বামীর বাড়িতেই লাশ হতে হলো গৃহবধু আসমা খাতুন(১৯)কে। আসমার পিতাসহ অভিভাবকদের দাবি স্বামীস্ত্রীর মধ্যে ঝগড়ার এক পর্যায়ে মারপিটের পর শ্বাসরোধে হত্যা করে ঘরের আড়ায় ঝুলিয়ে রেখে আত্মহত্যার প্রচার করে স্বামী। স্বামী হাবিবুল্লাহ হাবিব একজন মাদকসেবী ছিলেন। আর এ ঘটনা ঘটেছে রোববার দুপুরের দিকে উপজেলার গোবিন্দপুর গ্রামে। খবর পেয়ে বিকেলে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন সহকারি পুলিশ সুপার(মনিরামপুর সার্কেল) সোয়েব আহমেদ খান, ওসি(সার্বিক) রফিকুল ইসলাম। সন্ধ্যারদিকে পুলিশ লাশ উদ্ধার করে থানায় নিয়ে আসে। তবে নিহতের স্বামী শ্বশুর শাশুুড়িসহ পরিবারবর্গ বাড়ি ছেড়ে পালিয়েছে।
নিহত গৃহবধুর চাচা এনজিও কর্মী আবদুল মান্নান এবং মামা মাসুদুজ্জামান জানান, কেশবপুর উপজেলার আড়–য়া গ্রামের ঘের মালিক মুনসুর আলী সরদারের একমাত্র মেয়ে আসমা খাতুন গতবছর এইচএসসি পাশ করে। এর পর বিয়ে দেয়া হয় মনিরামপুর উপজেলার খানপুর ইউনিয়নের গোবিন্দপুর গ্রামের আবদুল মাজেদ ফকিরের ছেলে কৃষক হাবিবুল্লাহ হাবিবের সাথে। বিয়ের দুই-তিন মাস তাদের দাম্পত্য জিবন বেশ সুখময় ছিল। এর কিছুদিন পর আসমা অ্যাপিন্ডিসাইটস রোগে আক্রান্ত হয়ে পিতার বাড়িতে দুই মাস অবস্থান করে চিকিৎসা নেয়। সুস্থ্য হওয়ার পর আসমাকে তার শ্বশুর মাজেদ ফকির এবং স্থানীয় ইউপি সদস্য গোলাম আজিজ বাড়িতে আনেন। অভিযোগ রয়েছে আসমার স্বামী প্রায়ই নেশা করে বাড়িতে ফিরতেন। এ নিয়ে স্বামীস্ত্রীর মধ্যে ঝগড়া হতো। এছাড়া তার শ্বাশুড়ি ছিলেন দর্জাল প্রকৃতির। ফলে কারনে অকারনে শ্বাশুড়িও তার সাথে চরম দূর্ব্যবহার করতেন।
আসমার পিতা জানান, রোববার বেলা ১১ টার দিকে আসমা মোবাইলফোনে তাকে জানায়,হাবিবুল্লাহ তাকে বেধড়ক মারপিট করায় সে চরম অসুস্থ্য হয়ে পড়েছে। এ সময় আসমা পিতার কাছে বারবার আকুতি জানায় হাবিবের হাত থেকে তাকে রক্ষার জন্য। এ খবর পেয়েই আসমার পিতাসহ অভিভাবকরা দুপুর সাড়ে ১২ টার দিকে জামাইবাড়িতে এসে বারান্দায় আসমার লাশ দেখতে পান। অবশ্য এ সময় আসমার স্বামী শ্বশুর শাশুড়ি সহ পরিবারের কেই বাড়িতে ছিলেননা। আসমার পিতা এবং চাচা আবদুল মান্নানসহ পরিবারের লোকজনের দাবি স্বামী হাবিবুল্লাহ তাকে মারপিটের পর শ্বাসরোধে হত্যার পর ঘরের আড়ার সাথে ওড়না দিয়ে লাশ ঝুলিয়ে পালিয়ে যায়। স্থানীয় ইউপি সদস্য গোলাম আজিজ জানান, স্বামীস্ত্রীর মধ্যে ঝগড়ার পর আসমা গলায় দড়ি দিয়ে আত্মহত্যা করে। এ দিকে খবর পেয়ে বিকেল পাঁচটার দিকে সহকারি পুলিশ সুপার(মনিরামপুর সার্কেল) সোয়েব আহমেদ খান, ওসি(সার্বিক) রফিকুল ইসলাম ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন। সন্ধ্যার দিকে এসআই আশরাফুল আলম সেখান থেকে লাশ উদ্ধার করে থানায় আনেন। ওসি(সার্বিক) রফিকুল ইসলাম জানান, সোমবার সকালে লাশ ময়না তদন্তের জন্য যশোর ২৫০ শয্যা হাসপাতালের মর্গে প্রেরন করা হবে। তিনি জানান, ময়না তদন্তের রিপোর্ট পাবার পর পরবর্তি আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হবে।

এই সাইটে নিজম্ব নিউজ তৈরির পাশাপাশি বিভিন্ন নিউজ সাইট থেকে খবর সংগ্রহ করে সংশ্লিষ্ট সূত্রসহ প্রকাশ করে থাকি। তাই কোন খবর নিয়ে আপত্তি বা অভিযোগ থাকলে সংশ্লিষ্ট নিউজ সাইটের কর্তৃপক্ষের সাথে যোগাযোগ করার অনুরোধ রইলো।বিনা অনুমতিতে এই সাইটের সংবাদ, আলোকচিত্র অডিও ও ভিডিও ব্যবহার করা বেআইনি।