ঢাকাশনিবার , ১২ সেপ্টেম্বর ২০২০
আজকের সর্বশেষ সবখবর

মনিরামপুরে পোতা ছেলের হাতে দাদী খুন : আদালতে স্বীকারোক্তি

Tito
সেপ্টেম্বর ১২, ২০২০ ৭:৩৫ অপরাহ্ণ
Link Copied!

মনিরামপুর প্রতিনিধি॥
যশোরের মনিরামপুরে একজোড়া স্বর্নের চেইন এবং কানের দুলের কারনেই পোতা ছেলে সজিব(১৫) এর হাতে খুন হতে হয়েছে দাদী সকিনা বেগম(৭৫)কে। তবে কোন ধারালো অস্ত্র দিয়ে নয়, লাটি দিয়ে মাথায় উপর্যপুরি আঘাতে গুরুতর জখমের পর হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় শুক্রবার বিকেলে মৃত্যু হয় দাদীর। এ ঘটনায় ওইরাতেই পুলিশ খুনী সজিবকে আটক করে। শনিবার সকালে নিহতের লাশ উদ্ধারের পর পুলিশ ময়না তদন্তের জন্য যশোর ২৫০ শয্যা হাসপাতালের মর্গে প্রেরন করে। হত্যাকন্ডের ঘটনায় নিহতের ছেলে সাইদুল ইসলাম বাদি হয়ে সজিবের বিরুদ্ধে একটি হত্যা মামলা করেন। দুপুরে পুলিশ সজিবকে আদালতে হাজির করলে সে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি প্রদান করে। নিহত সকিনা বেগম উপজেলার মশ্বিমনগর ইউনিয়নের নোয়ালী গ্রামের মোহাম্মদ আলী শেখের স্ত্রী।
নিহতের ছেলে সাহিদুল ইসলাম জানান, গত ৩ সেপ্টেম্বর দুপুরের পর চাচাতো ভাইয়ের ছেলে সজিব হোসেনকে তার(সাহিদুলের মা) মা সকিনা বেগম সাথে নিয়ে পার্শ্ববর্তি ঝিকরগাছা উপজেলার দিকদানা গ্রামে ছোট মেয়ে রেশমা খাতুনের বাড়ির উদ্দেশ্যে রওনা হয়। বিকেল সাতে তিনটার দিকে নোয়ালী গ্রামের পশ্চিম মাঠের ফাঁকারাস্তার কাছে পৌছালে পিছন থেকে পোতাছেলে সজিব লাঠিদিয়ে দাদী সকিনা বেগমের মাথায় উপর্যপুরি আঘাত করে। ফলে দাদী রক্তাক্ত যখম হয়ে মাটিতে লুটিয়ে পড়ে। এ সুযোগে সজিব দাদীর গলা থেকে স্বর্নের চেইন এবং কানের দুল নেওয়ার চেষ্টা করে। কিন্তু আশপাশের লোকজন চলে আসলে সজিব সেখান থেকে পালিয়ে যায়।পরে গুরুতর আহত অবস্থায় সকিনা বেগমকে উদ্ধারের পর প্রথমে যশোর শহরে একটি বেসরকারি হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। পরে সেখানে অবস্থার অবনতি হলে উন্নত চিকিৎসার জন্য সকিনা বেগমকে ঢাকার একটি হাসাপাতাল স্থানান্তরিত করা হয়। সেখানে চিকিৎসার পর অবস্থার উন্নতি হলে গত বুধবার সকিনাকে গ্রামের বাড়িতে আনা হয়। কিন্তু ওই দিন বিকেলে হঠাৎকরেই সকিনার অবস্থার মারাত্বক অবনতি হয়। ফলে বুধবার বিকেলে তাকে যশোরের একটি বেসরকারি হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। সেখানে চিকিৎসাধিন অবস্থায় শুক্রবার বিকেলে সকিনা বেগমের মৃত্যু হয়।
খবর পেয়ে ওই রাতেই পুলিশ সজিব হোসেনকে আটক করে।মশ্বিমনগর ইউপি চেয়ারম্যান আবুল হোসেন জানান, নোয়ালী গ্রামের মফিজুল শেখের ছেলে সজিব হোসেন বয়সে কিশোর হলেও সে একজন মাদকাসক্ত হিসেবে এলাকায় পরিচিত। সজিবের পিতা-মাতা বর্তমান ঢাকাতে একটি পোশাক তৈরী প্রতিষ্ঠানে শ্রমিকের কাজ করে। লেখাপড়া ছেড়ে সজিব চারমাস আগে ঢাকা থেকে গ্রামের বাড়িতে এসে দাদার সংসারে বসবাস করে আসছিল। এ ছাড়াও তার বিরুদ্ধে চুরি ছিনতাই সহ বিভিন্ন অপরাধমূলক কর্মকান্ডে জড়িত থাকার অভিযোগ রয়েছে। ওসি(তদন্ত) শিকদার মতিয়ার রহমান জানান, নিহতের ছেলে সহিদুল ইসলাম বাদি হয়ে শনিবার সজিবের বিরুদ্ধে থানায় একটি হত্যা মামলা করেন। মামলার তদন্তকারী অফিসার রাজগঞ্জ পুলিশ তদন্ত কেন্দ্রের এসআই তপন কুমার নন্দী জানান, শনিবার দুপুরে যশোর চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিষ্ট্রেট আদালতে সজিব স্বীকারোক্তি মূলক জবানবন্দি প্রদান করে। জুডিশিয়াল ম্যাজিষ্ট্রেট মেহেদী হাসান তার জবানবন্দী রেকর্ড করেন। পরে আদালত সজিবকে যশোর শিশু কিশোর সংশোধনাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন। এসআই তপন নন্দী জানান, সজিব আদালতে স্বীকার করেছে একটি ভাল মোবাইল সেট কেনার জন্য সে দাদীর মাথায় লাঠি দিয়ে আঘাত করে স্বর্নালংকার নেয়ার চেষ্টা করে। কিন্তু এসময় লোকজন চলে আসলে স্বর্নালংকার নিতে পারেনি।

এই সাইটে নিজম্ব নিউজ তৈরির পাশাপাশি বিভিন্ন নিউজ সাইট থেকে খবর সংগ্রহ করে সংশ্লিষ্ট সূত্রসহ প্রকাশ করে থাকি। তাই কোন খবর নিয়ে আপত্তি বা অভিযোগ থাকলে সংশ্লিষ্ট নিউজ সাইটের কর্তৃপক্ষের সাথে যোগাযোগ করার অনুরোধ রইলো।বিনা অনুমতিতে এই সাইটের সংবাদ, আলোকচিত্র অডিও ও ভিডিও ব্যবহার করা বেআইনি।