ঢাকাসোমবার , ২৯ ডিসেম্বর ২০১৪
আজকের সর্বশেষ সবখবর

সরকার পতনে বিএনপির টার্গেট এবার ঢাকা অচল

admin
ডিসেম্বর ২৯, ২০১৪ ৭:৪৩ পূর্বাহ্ণ
Link Copied!

সারা দেশ নয়, শুধু রাজধানী ঢাকা অচলের মাধ্যমে সরকারের পতন নিশ্চিত করতে চায় বিএনপি নেতৃত্বাধীন ২০ দলীয় জোট। নির্দলীয় সরকারের অধীনে নির্বাচন দাবিতে আবারও সরব এ জোট। এ দাবি আদায়ে জোট চূড়ান্ত আন্দোলনের নীতিগত সিদ্ধান্ত নিয়েছে। জানুয়ারিতে বিএনপি রাজপথে নামবে বলে আগেই জানিয়ে দিয়েছে। জানা গেছে, বিএনপি তাদের জোটের শরিক দলগুলোকে নিয়ে জানুয়ারিতে সরকার পতনের চূড়ান্ত আন্দোলনে নামছে। এজন্য চলতি ডিসেম্বর ‘ওয়ার্মআপ’ মাস হিসেবে বেছে নেয় দলটি। বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়াও বলেছেন, ‘তাঁরা এ মাসেই চূড়ান্ত প্রস্তুতি নেবেন।’বিজয়ের মাস শেষে জানুয়ারিতে সরকার অপসারণের আন্দোলন, মার্চে নতুন নির্বাচন- এ লক্ষ্য পূরণ করতে ঢাকা মহানগর বিএনপিকে বিশেষ প্রস্তুতি নিতে বলেছেন খালেদা জিয়া। এছাড়া চলতি মাসজুড়ে চলছে নানা ওয়ার্মআপ কর্মসূচি। যার মধ্যে নব্বইয়ের স্বৈরাচারবিরোধী আন্দোলনের ছাত্রনেতাদের নিয়ে কনভেনশন, জাতীয়তাবাদী মুক্তিযোদ্ধা দলের সমাবেশ, সদস্য সংগ্রহ, বেগম জিয়ার গণসংযোগ, আলোচনা সভা, মতবিনিময় ও আজকের দেশব্যাপী হরতাল অন্যতম। সূত্রমতে, ২ জানুয়ারি অনুষ্ঠেয় সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে মহাসমাবেশ, ৫ জানুয়ারি ‘সরকারকে না বলুন’Ñ এ শিরোনামে ৫ মিনিটের জন্য রাস্তায় নেমে কোটি মানুষের নীরব প্রতিবাদ করার পরিকল্পনা রয়েছে। যদিও ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ ৫ জানুয়ারি তাদের গণতন্ত্রের বিজয় দিবস পালনের সিদ্ধান্ত নিয়ে রেখেছে। জানুয়ারির দ্বিতীয় সপ্তাহে ২০ দলীয় জোটের ব্যানারে মহাসমাবেশ ডাকা হতে পারে। ওই সমাবেশ থেকে সরকারের প্রতি শেষবারের মতো নির্বাচন দেওয়ার আহ্বান জানাবেন বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া। এরপর সরকারের পক্ষ থেকে সাড়া না এলে জানুয়ারি মাসের তৃতীয় ও চতুর্থ সপ্তাহে রাজধানী ঢাকাকে আন্দোলনের বলয় হিসেবে ঘোষণা করা হবে। রাজধানী ঢাকার ৫৪টি স্পটে অবস্থান নেবে ২০ দলীয় জোট। যদিও সেসব অবস্থানে প্রধান শক্তি হিসেবে থাকবে জামায়াত। দলের দায়িত্বশীল সূত্রে জানা গেছে, ঢাকার সাংগঠনিক অবস্থা দ্রুত আন্দোলন উপযোগী করার জন্য কয়েকজন নেতাকে মনিটরিং করতে বলেছেন খালেদা জিয়া। আন্দোলনে মূল টার্গেট থাকবে ঢাকা অচল করে দেওয়া। ৫ জানুয়ারির নির্বাচন ঠেকানোর আন্দোলনে ঢাকা নিষ্ক্রিয় থাকায় সফলতা আসেনি বলে মনে করেন দলের হাইকমান্ড। এ কারণে এবার বড় মাত্রায় নজর দেওয়া হচ্ছে ঢাকার দিকে। এছাড়া একই লক্ষ্যে বেশ আগে থেকেই বিএনপি চেয়ারপারসন বিভিন্ন জেলা সফর করেছেন। সেসব জনসভায় ব্যাপক সাড়াও পেয়েছেন তিনি। তা থেকেই খালেদা জিয়া তৃণমূল নিয়ে নির্ভার রয়েছেন। এখন তিনি ঢাকাকে প্রস্তুত করবেন বলে জানা গেছে। এদিকে গুলশান কার্যালয়ে যাওয়া সিনিয়র নেতাদের সঙ্গে আলাপকালে বেগম খালেদা জিয়া বলেছেন, ‘মার্চে নতুন নির্বাচন হবে। সেজন্য আন্দোলনের প্রস্তুতি নিন। বাধ্য না হলে সরকার নির্বাচন দেবে না। তাই সংশ্লিষ্ট সবার সঙ্গে যোগাযোগ রাখতে পরামর্শ দেন তিনি। এজন্য কূটনৈতিক মহল থেকেও সবুজ সঙ্কেত পাওয়া গেছে। তাই জানুয়ারি ও ফেব্রুয়ারি টানা আন্দোলনের পরিকল্পনা গ্রহণ করা হচ্ছে।’জানুয়ারির সম্ভাব্য আন্দোলন নিয়ে বিএনপি স্থায়ী কমিটির এক সদস্য বলেন, ‘আমরা এবার আটঘাট বেঁধেই মাঠে নামব। জানুয়ারি থেকে শুরু হবে সরকার পতনের আন্দোলন।’ তিনি মনে করেন, ‘এই আন্দোলন হবে বিএনপির শেষ চেষ্টা। বিফল হলে দলের অস্তিত্ব নিয়ে টানাপড়েন দেখা দেবে। তাই সবাইকে সেভাবেই নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।’ দেশের প্রাণকেন্দ্র রাজধানী ঢাকাকে দখলে বা সরকারি নিয়ন্ত্রণের বাইরে নিতে পারলেই সরকারের পতন ঘটবে বলে মনে করছেন বিরোধী দলের নেতারা। ইতিপূর্বে বিরোধীদলীয় জোট দেশব্যাপী বিভিন্ন আন্দোলন-সংগ্রামের মাধ্যমে নিরপেক্ষ সরকারের অধীনে ১০ম জাতীয় সংসদ নির্বাচনের দাবি আদায়ে ব্যর্থ হয়। তাদের আন্দোলন ব্যর্থ হওয়ার পাশাপাশি জোটের নেতৃত্বদানকারী প্রধান দুই দল বিএনপি এবং জামায়াত নেতাকর্মীরা নানা ধরনের মামলা-হামলার শিকার হন। তাছাড়া সব দলের অংশগ্রহণে একটি নিরপেক্ষ নির্বাচন অনিশ্চিত হয়ে পড়ায় নেতাকর্মীরা এতদিন হতাশার মধ্যে ছিলেন বলেও জানা গেছে। সব হতাশাকে দূরে ঠেলে ঢাকাকেন্দ্রিক দুর্বার আন্দোলনের মাধ্যমেই সরকারের পতন ঘটানো সম্ভব বলে মনে করছেন তাঁরা। তাই জানুয়ারিতে ঢাকা থেকেই চূড়ান্ত আন্দোলন গড়ে তোলার পরিকল্পনা নিয়ে এগোচ্ছে বিএনপি নেতৃত্বাধীন ২০ দলীয় জোট। সে লক্ষ্যে আগামী ৩ ও ৫ জানুয়ারি ঢাকায় সমাবেশের ঘোষণাও দেওয়া হয়েছে। ইতোমধ্যে অনুমতি চেয়ে আবেদনও করা হয়। সমাবেশ করতে দেওয়া না হলে ৭২ ঘণ্টার হরতাল দেওয়ারও নীতিগত সিদ্ধান্ত নিয়ে রেখেছেন তারা। উদ্ভূত পরিস্থিতিতে ধারাবাহিক কর্মসূচিরও চিন্তা-ভাবনা রয়েছে। তাই এমন পরিকল্পনা বাস্তবায়নে আগেভাগেই শক্তি ক্ষয় করতে চাচ্ছেন না দলের নেতাকর্মীরা। সবকিছু মিলে সারাদেশের পরিবর্তে শুধু ঢাকাকে কেন্দ্র করে বিএনপি দুর্বার আন্দোলন গড়ে তুলবে- এটা বলাই যায়। এ আন্দোলনের মেয়াদ এক থেকে দেড় মাস হতে পারে। এ সময়ের মধ্যেই তারা তাদের কাক্সিক্ষত লক্ষ্যে পৌঁছতে চায়। জানা গেছে, দেশ চালনার কেন্দ্রবিন্দু ঢাকায় বিভিন্ন পয়েন্টভিত্তিক ও পরিকল্পিত ছক-আন্দোলনের মাধ্যমে সরকার পতন নিশ্চিত করতে চায় ২০ দলীয় জোট। ঢাকা অচলে এবার আগ থেকে কোনো আন্দোলন-সংগ্রামের ডাক নাও দিতে পারে তারা। অভ্যন্তরীণভাবে সবকিছু ঠিকঠাক করে সারাদেশ থেকে বিশাল নশক্তি রাজধানীতে উপস্থিতির একটি ব্যাপক পরিকল্পনাও রয়েছে বিরোধী এ জোটের। ঢাকায় ব্যাপক জনউপস্থিতি ও তাদের পক্ষের সব দলের অংশগ্রহণেই ঝাঁপিয়ে পড়তে চায় তারা। ইতোমধ্যে এমন টার্গেট করেই আন্দোলনের ছক আঁকা হয়েছে বলে বিশ্বস্ত সূত্রে জানা গেছে। বিএনপির একাধিক নেতার সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, এর আগে সারাদেশে দুর্বার আন্দোলন হয়েছে; কিন্তু এর কোনো প্রভাব ঢাকায় পড়েনি। দলের অনেক নেতাকর্মী সরকারদলীয়দের হাতে আহত ও নিহত হলেও কোনো ভালো ফল বয়ে আনেনি। তাই এবার সারাদেশের সঙ্গে মূলত ঢাকাকে প্রাধান্য দিয়ে আন্দোলনের পরিকল্পনা হাতে নেওয়া হয়েছে। মূলত টানা আন্দোলনের মাধ্যমে সরকারের ধৈর্যচ্যুতি ঘটিয়ে সফল হতে চায় ২০ দলীয় জোট। ওই নেতাদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, সরকার সারাদেশের মানুষের ওপর যেভাবে চেপে বসেছে, যেভাবে সবার গণতান্ত্রিক অধিকার ক্ষুণœ করছে, তাতে করে ঢাকায় বসবাসকারী সব মানুষ সরকার পতন আন্দোলনে নেমে আসবে। মোট কথা, রাজধানী ঢাকায় সর্বশক্তি নিয়োগের মাধ্যমে সরকারকে ব্যর্থ করার সব পরিকল্পনা ইতোমধ্যে নেওয়া হয়েছে। তবে অনেকে মনে করছেন, ২০০৬ সালের আওয়ামী লীগের দেখানো লগি-বৈঠার আন্দোলন থেকে শিক্ষা নিয়ে বিরোধী জোটের এমন পরিকল্পনা। এদিকে পরিকল্পিত ঢাকা অচল আন্দোলন সফলে ইতোমধ্যে কয়েকবার মিটিংও করেছেন ২০ দলীয় জোটের শীর্ষ নেতারা। তবে এ মিটিং কোনো জোটভিত্তিক হচ্ছে না বলে জানিয়েছে একটি সূত্র। এ পরিকল্পনার মূলে রয়েছে- প্রত্যেক দলের জনশক্তি একত্রিত করেই ঢাকা অচল করা। কিন্তু এ আন্দোলন বাস্তবায়নে এক একটি দলকে নির্দিষ্ট করে দায়িত্ব নির্ধারণ করে দেওয়া হবে। প্রত্যেকেই যার যার অবস্থান থেকে দায়িত্ব পালন করবে। সূত্র জানিয়েছে, দল হিসেবে বিএনপির সাংগঠনিক অবস্থা এখন অনেকটা নড়বড়ে; তাই বিএনপির ওপর নির্ভর না করে আন্দোলনের জন্য আলাদা একটি কমিটিও গঠন করা হয়েছে। এ কমিটির বেশিরভাগ নেতাই ইসলামপন্থি রাজনৈতিক সংগঠনের বলেও জানা গেছে। এসব দলের কয়েকজন নেতার সঙ্গে আলাপচারিতায় জানা গেছে, বিএনপির ওপর নির্ভর করে সরকার পতনের আন্দোলনে জয়ী হওয়া সম্ভব নয়। বিএনপির ওপর নির্ভরতা কমিয়ে বিএনপিসহ জোটের অন্য শরিকদের সমন্বয়ে সামগ্রিক আন্দোলন বাস্তবায়ন কমিটি করা হয়েছে। এ বাস্তবায়ন কমিটি প্রত্যেক দলকে আলাদা করে কার্যপ্রণালী নির্ধারণ করে দেবে। আরোপিত দায়িত্ব এই দলগুলো তার নিজস্ব পরিকল্পনামাফিক পালন করবে বলেও জানা গেছে। এ কমিটি এখন চায় শুধু অর্পিত দায়িত্বের বাস্তবায়ন। এদিকে হরতাল-অবরোধের মতো কর্মসূচিতে আগ্রহী নন জোটের বেশিরভাগ শীর্ষ নেতাসহ দলের তৃণমূল নেতাকর্মী। কারণ হরতালে উল্লেখযোগ্য কোনো ফল না পাওয়া গেলেও বিপরীতে নেতাকর্মীরা মামলা-হামলার শিকার হন। সারাদেশে হরতাল-অবরোধ হলে সেসব এলাকার নেতাকর্মীরা বেশি সমস্যায় পড়েন। কিন্তু ঢাকাকেন্দ্রিক আন্দোলন হলে ঢাকার নেতারা ছাড়া অন্যদের হামলা-মামলার শিকার হওয়ার সম্ভাবনা অনেকাংশে কম থাকে বলেও তাঁরা মনে করছেন। ইতোমধ্যে যেসব এলাকায় আন্দোলন সফল হয়েছে, সেসব এলাকার নেতাদের নিয়ে রাজধানীতে কয়েকবার মিটিং হয়েছে। তাছাড়া এ আন্দোলনে পুলিশসহ আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সব ধরনের হামলার মোকাবিলা করার জন্যও ব্যবস্থা থাকবে বলে জানা গেছে। এ বিষয়ে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক বিএনপির এক শীর্ষ নেতা ভোরের পাতাকে বলেন, ‘এবার সরকার পতন আন্দোলন হবে এবং সেই আন্দোলনের মাধ্যমেই আমরা সরকারের পতন নিশ্চিত করব। তবে কীভাবে বা কোন টার্গেটের ওপর ভিত্তি করে এ আন্দোলন হবেÑ তা বাস্তবেই দেখতে পাবে জাতি। এর বেশি কিছু বলতে চাই না।’নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক জামায়াতের ঢাকা মহানগরীর এক শীর্ষ নেতা বলেন, ‘সরকার পতনের কোনো বিকল্প নেই। ৫ জানুয়ারির অবৈধ নির্বাচনকে বাতিল করে আবার সবার অংশগ্রহণে একটি নিরপেক্ষ নির্বাচনের জন্য সরকার পতনের কোনো বিকল্প নেই। এছাড়া আর তেমন কিছু বলতে পারব না।’

এই সাইটে নিজম্ব নিউজ তৈরির পাশাপাশি বিভিন্ন নিউজ সাইট থেকে খবর সংগ্রহ করে সংশ্লিষ্ট সূত্রসহ প্রকাশ করে থাকি। তাই কোন খবর নিয়ে আপত্তি বা অভিযোগ থাকলে সংশ্লিষ্ট নিউজ সাইটের কর্তৃপক্ষের সাথে যোগাযোগ করার অনুরোধ রইলো।বিনা অনুমতিতে এই সাইটের সংবাদ, আলোকচিত্র অডিও ও ভিডিও ব্যবহার করা বেআইনি।