1. admin@manirampurprotidin.com : admin :
  2. hnurul146@gmail.com : nurul :
  3. titonews24@gmail.com : Tito :
শিরোনাম :
হাইকোর্টের নির্দেশে কেশবপুরে অবৈধ “রোমান ব্রিকস” ভেঙ্গে দিল প্রশাসন মাদ্রিদে হবিগঞ্জবাসীর মিলন মেলায় মুখরিত লাভপিয়েছ মণিরামপুরের জুড়ানপুর বালিকা বিদ্যালয়ের সহকারী প্রধান শিক্ষককে হাজিরা খাতায় স্বাক্ষরে বাঁধা মালিতে জাতিসংঘ শান্তিপদক পেলেন বাংলাদেশের ১৩৯ জন শান্তিরক্ষী কেশবপুর উপজেলা চেয়ারম্যানকে হত্যার হুমকির প্রতিবাদে মানববন্ধন ও বিক্ষোভ মণিরামপুরে সাংবাদিক পুত্র মাহির গোল্ডেন জিপিএ-৫ লাভ মণিরামপুরে ইকবালকে কমিটি গঠন কার্যক্রম থেকে বিরত থাকার নির্দেশ : রোহিতার আহ্বায়ক বহিষ্কার মণিরামপুরে ২দিন ব্যাপি ডিজিটাল উদ্ভাবনী মেলার শুভ উদ্বোধন মণিরামপুরে গ্রাম ডাক্তারের ভুল চিকিৎসায় স্কুল ছাত্রীর হাতে পঁচন ।। আদালতে মামলা মণিরামপুরে সাবেক অধ্যক্ষ মাওলানা বজলুর রহমানের ইন্তেকাল

নীল রতন ও জীবন রতনসহ উপমহাদেশের ছয় রত্নের জন্মস্থান মণিরামপুর

  • আপডেট: শুক্রবার, ১৬ এপ্রিল, ২০২১
  • ৭১৪ দেখেছেন

শহিদুজ্জামান মিলন।।
ভারত সরকারের কারামন্ত্রী ও স্বাস্থ্যমন্ত্রী ক্যাপ্টেন ডা: জীবণ রতন ধর, ভৌত রসায়ন ক্ষেত্রের পথিকৃৎ নোবেল পুরস্কার কমিটির বিচারক উপমহাদেশের প্রখাত বিজ্ঞানী নীলরতন ধর, ব্যারিস্টার অমুল্য রতন ধর, ডা: দূর্গা রতন ধর, ডা: প্রশান্ত রতন ধর এবং ডা: নির্মল রতন ধরের জন্মস্থানের শেষ স্মৃতিটুকুও আজ প্রায় বিলীন হতে বসেছে। যে ভুমিটি ছিলো তৎ’কালীর জমিদার অ্যাডভোকেট প্রসন্ন কুমার ধরের, যে গৃহে ছয় রত্নকে জন্ম দিয়েছেন বৃটিশ সরকারের অমুল্য পুরস্কারপ্রাপ্ত রত্নগর্ভা, যে গৃহে বউ হিসেবে পদচারন করেছেন ভারত সরকারের আরেক সফল
মন্ত্রী চারু শীল ধর সেই গ্রামে শেষ চিহ্ন বলতে আছে মাত্র একটি মন্দিরের স্তুপ আর একটি টিনের ঘর। আর প্রতিবেশি বলতে আছে মাত্র একটি হিন্দু পরিবার।
যশোর জেলার মনিরামপুর উপজেলার ষোলখাদা গ্রামে জন্ম গ্রহণ করেন এই ৬ রত্ন। ১৯৬২ সালে গণি মোড়ল প্রসন্ন কুমার ধরের সাথে সম্পত্তি বিনিময় করে এ দেশে এসে বসবাস শুরু করেন আর প্রসন্ন কুমার ধর তার পুত্রদের দিয়ে চলে যান গণি মোড়লের জায়গা ভারতে। যদিও তারা বলেন আমরা এদেশের সম্পদ : ভারত সরকারের কারামন্ত্রী ও স্বাস্থ্যমন্ত্রী ক্যাপ্টেন ডা: জীবণ রতন ধর, ভৌত রসায়ন ক্ষেত্রের পথিকৃৎ উপমহাদেশের প্রখাত বিজ্ঞানী নীলরতন ধর, ব্যারিস্টার অমুল্য রতন ধর, ডা: দূর্গা রতন ধর, ডা: প্রশান্ত রতন ধর এবং ডা: নির্মল রতন ধরের জন্মস্থানের স্মৃতি ধরে রাখতে চাই কিন্তু চাইলেও তো আর সম্ভব না। তারপরও তারা বলেন আমরা তাদের ব্যবহৃত মদ্রিটি এখনো উঠিয়ে দেয়নি, যদিও মন্দিরটি ভেঙ্গে পড়েছে, এখন শাপ পোকার বসবাস।

জীবন রতন ধর
ডাঃ ক্যাপ্টেন জীবনরতন ধর যশোর জিলা স্কুল হতে প্রবেশিকা পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হন। ক্যাপ্টেন ধর বৃটিশ ভারতীয় সামরিক বাহনীর উচ্চ পদের চিকিসৎকরূপে প্রথম মহাযুদ্ধে যোগ দিয়ে বিদেশ যান। যুদ্ধ শেষে দেশে ফিরে নিজ জেলা যশোরে চিকিৎসা ব্যবসা শুরু করেন। অল্পদিনের মধ্যেই প্রচুর খ্যাতি ও জনপ্রিয়তা অর্জন করেন। অসহযোগ আন্দোলনের সময় বিলেত-ফেরত স্বদেশী ভাবাপন্ন ডাক্তার ক্যাপ্টেন জীবনরতন ধর দেশের কাজ করার ইচ্ছায় এই সময় সক্রিয়ভাবে যশোর-খুলনা যুবসংঘের কাজে অংশগ্রহণ করেন এবং কংগ্রেসে
যোগদেন। ১৯২৯ সালের আগস্ট মাসে যশোর কংগ্রেসের শ্রেষ্ঠ সংগঠক বিজয় রায়ের অকালমৃত্যুর পর ডাঃ জীবনরতন ধর যশোর কংগ্রেসের হাল ধরেন। আন্দোলনের সময় থেকে একাধিক্রমে দশ-বারো বছর যশোর কংগ্রেসের সহ-সভাপতি নিযুক্ত থাকেন। জীবনরতন কংগ্রেস আন্দোলনে যোগ দিয়ে বেশ কয়েকবার কারাবরণ করেন। যশোর সরকারী এম. এম কলেজ প্রতিষ্ঠার ক্ষেত্রে তাঁর অবদান রয়েছে। ১৯৪০ খৃষ্টাব্দের আগস্ট মাসে মহিতোষ রায় চৌধুরীর পদক্ষেপে যশোর এম. এম. কলেজ প্রতিষ্ঠার জন্য জনসভা আহ্বান করা হলে ডাঃ জীবনরতন ধরকে এম. বি কোষাধ্যক্ষ হিসেবে দায়িত্ব প্রদান করা হয়। স্বাধীনতা পূর্ব যুগে বাংলার আইন সভার সদস্য নির্বাচিত হন। তিনি ১৯৪৫ থেকে ১৯৪৮ সাল পর্যন্ত যশোর পৌরসভার চেয়ারম্যানের দায়িত্ব পালন করেন। ভাষা আন্দোলনে জড়িত থাকার অপরাধে কয়েকদিন কারা অন্তরালে থাকেন তিনি। দেশ স্বাধীন হলে বনগ্রাম থেকে পশ্চিমবঙ্গের আইন সভার সদস্য নির্বাচিত হন এবং ডাঃ বিধানচন্দ্রের মন্ত্রীসভায় প্রথমে কারামন্ত্রী ও পরে স্বাস্থ্যমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন।

নীল রতন ধর
প্রখ্যাত বিজ্ঞানী অধ্যাপক নীলরতন ধর এম.এস.সি-তে কলা ও বিজ্ঞান বিভাগ নিয়ে সর্বোচ্চ রেকর্ড নম্বর পেয়ে কুড়িটি স্বর্ণপদক, গ্রিফিথ পুরস্কার ও এশিয়াটিক সোসাইটি প্রদত্ত পুরস্কার লাভ করেন। কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ে রসায়ন শাস্ত্রে এম.এস.সি পড়ার সময়ে বিজ্ঞান জগতের দুইজন দিকপাল আচার্য প্রফুল্ল চন্দ্র ও আচার্য জগদীশচন্দ্রের অধীনে গবেষণায় রত হন। ১৯১৫ সালে স্টেট স্কলারশিপ পেয়ে বিলেত যান। ১৯১৭ সালে লন্ডন বিশ্ববিদ্যালয় থেকে এবং ১৯১৯ সালে প্যারিসের সরবন বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ‘ডি.এস.সি’ উপাধি লাভ করেন। ১৯১৯ সালে লন্ডনে ফিরে আই.ই.এস নির্বাচিত হয়ে এলাহাবাদ ম্যুর সেন্ট্রাল কলেজের রসায়ন বিভাগের প্রধান হিসেবে যোগ দেন। তাঁর গবেষণা জীবনের প্রথম কাজ ‘ইনডিউসড অ্যান্ড ফটো-কেমিক্যাল রিঅ্যাকশন’। শেষ জীবনেও তিনি নাইট্রোজেন ফিকশন নিয়ে গবেষণায় রত ছিলেন। তাঁর মৌলিক গবেষণাপত্রের সংখ্যা ছয়শতাধিক। ভৌত রসায়ন ক্ষেত্রে তিনি পথিকৃৎ হিসেবে স্বীকৃত। তিনি পাঁচটি বিশ্ববিদ্যালয়ের অনারারি ডক্টরেট এবং এস এ হিল ও জি হিল স্মৃতি পুরস্কার পেয়েছেন। ১৯৩৮, ১৯৪৭ ও ১৯৫২ সালে তিনি নোবেল পুরস্কার কমিটিতে তিনি বিচারক ছিলেন। তিনি ভারতীয় বিজ্ঞান একাডেমীর অন্যতম প্রতিষ্ঠাতা। ১৯৩৪ সালে ২০ লক্ষ টাকা ব্যয়ে তাঁর নির্মিত ইন্পিয়ান ইন্সটিটিউট অব স্পেশাল সায়েন্স এর বাড়িটি তাঁর প্রথম স্ত্রী বিজ্ঞানী সেইলা ধরের মৃত্যুর পর (১৯৪৯) এলাহাবাদ বিশ্ববিদ্যালয় তাঁর নামাঙ্কিত করে। তিনি অত্যন্ত মিতব্যয় জীবনযাপন করতেন। গবেষণার জন্য তিনি বহু লক্ষ টাকা ব্যয় করেছেন। তিনি কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়কে ৪ লক্ষ টাকা আচার্য প্রফুল্ল চন্দ্র রায়ের নামে অধ্যাপক পদ ও ১ লক্ষ টাকা আচার্য জগদীশচন্দ্র বসুর নামে লেকচারার পদ সৃষ্টির জন্য দিয়েছেন। চিত্তরঞ্জন সেবাসদনকে ১ লক্ষ টাকা এবং ৭ বছরের সম্পূর্ণ বেতন তিনি এলাহাবাদ বিশ্ববিদ্যালয়কে দান করেন। ভারত সরকার তাঁকে “পদ্মশ্রী” খেতাব দিতে চাইলে তিনি তা বিনয়ের সাথে প্রত্যাখ্যান করেন।
আমাদের খাদ্য, জমির উর্বরতা বৃদ্ধির উপায়, নিট কনসেপশন ইন বায়ো কেমিস্ট, ইনফ্লুয়েন্স অব লাইট ইন সাম বায়ো-কেমিক্যাল প্রসেস ইত্যাদি গ্রন্থ রচনা করেছেন। বিজ্ঞান জগতের এই দিকপাল মনীষী ১৯৮৫ খ্রিস্টাব্দে ৫ ডিসেম্বর তাঁর কর্মময় জীবনের অবসান ঘটান।


এ খবর টি সোস্যাল মিডিয়াতে এ পোষ্ট করুন

এ জাতীয় আরও খবর




© All rights reserved © 2013-2022