1. admin@manirampurprotidin.com : admin :
  2. hnurul146@gmail.com : nurul :
  3. titonews24@gmail.com : Tito :
শিরোনাম :
কেশবপুর উপজেলা চেয়ারম্যানকে হত্যার হুমকির প্রতিবাদে মানববন্ধন ও বিক্ষোভ মণিরামপুরে সাংবাদিক পুত্র মাহির গোল্ডেন জিপিএ-৫ লাভ মণিরামপুরে ইকবালকে কমিটি গঠন কার্যক্রম থেকে বিরত থাকার নির্দেশ : রোহিতার আহ্বায়ক বহিষ্কার মণিরামপুরে ২দিন ব্যাপি ডিজিটাল উদ্ভাবনী মেলার শুভ উদ্বোধন মণিরামপুরে গ্রাম ডাক্তারের ভুল চিকিৎসায় স্কুল ছাত্রীর হাতে পঁচন ।। আদালতে মামলা মণিরামপুরে সাবেক অধ্যক্ষ মাওলানা বজলুর রহমানের ইন্তেকাল আয়েবাপিসি’র সাধারন সম্পাদক বকুল খানকে যুক্তরাজ্যে বিভিন্ন সংগঠনের সংবর্ধনা সাতবাড়িয়া ইউনিয়ন পরিষদ সচিবের প্রকাশ্যে ঘুষ গ্রহন মণিরামপুর জুয়েলারী সমিতি পক্ষ থেকে কাউন্সিলর বাবুলাল চৌধুরীকে সংবর্ধনা মণিরামপুরের শীর্ষ ব্যবসায়ী রতন পালের স্ব-পরিবারে ভারত পাড়ি! কিন্তু কেন ?

মনিরামপুরে নাশকতা কারীদের রক্ষায় হাইব্রিড আওয়ামীলীগদের অপতৎপরতা। ত্যাগী নেতা কর্মীরা ক্ষুব্ধ।

  • আপডেট: বুধবার, ১৩ মে, ২০১৫
  • ৬০৩ দেখেছেন

মনিরামপুরে গত জাতীয় সংসদ নির্বাচনের পূর্বাপর নাশকতাকারীদের রক্ষায় উপজেলার কয়েকটি এলাকার দালাল চক্রের অপতৎপরতার অভিযোগ উঠেছে। থানা পুলিশের দোহায় দিয়ে নাশকতা কারীদের কাছ থেকে মোটা অংকের অর্থ নিয়ে ওই চক্র ইতোমধ্যে লাখ লাখ টাকা হাতিয়ে নিয়েছে বলে অভিযোগ। কিন্তুপুলিশি সাড়াশি অভিযানে একের পর এক নাশকতাকারী আটক হওয়ায় দালাল চক্র বেকায়দায় আছে বলে একাধিক সুত্রে জানাগেছে। নাশকতাকারীদের রক্ষায় সুযোগ সন্ধানী ও সুবিধাভোগী অতিথি ”সাইবেরিয়ান পাখি” হাইব্রিড আওয়ামীলীগ পরিচয় দানকারী দালাল চক্র এহেন কাজে লিপ্ত রয়েছে বলে গোয়েন্দা সুত্রেও জানা গেছে।
জানাযায়, ২০১৩ সালের ২৮ শে মার্চ যুদ্ধাপরাধীর দায়ে দেলোয়ার হুসানইন সাঈদীর ফাঁসির রায়ের পর উপজেলার প্রায় অর্ধ শতাধিক স্থানে জামায়াত-বিএনপির অতি উৎসাহী উৎশৃঙ্খল নেতা-কর্মীরা হরতাল, অবরোধের নামে ব্যাপক নাশকতার রাজত্ব কায়েম করে। বিশেষ করে উপজেলার বেগারীতলাal-logo, চালকিডাঙ্গা, জয়পুর, ঢাকুরিয়া, ইত্যা, পেয়ারাতলা, চিনাটোলা, নেংগুড়াবাজার, গোপালপুর, কাশিমনগরসহ প্রায় অর্ধশতাধিক স্থানে ব্যাপক নাশকতার রাজ্য গড়ে তোলে। এসময় ওই সব স্থানের রাস্তা দিয়ে ইঞ্জিন চালিত যানবহন চলাচল তো দূরের কথা সাইকেল, ভ্যানও চলতে দেয়া হয়নি। একই সাথে নিরীহ পথচারীদের কাছ থেকে অর্থকড়ি হাতিয়ে নেওয়াসহ সাধারন মানুষকে নিদারুন নাজেহেল করা হয়। পরবর্তীতে ২০১৪ সালের ৫ জানুয়ারী জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে ঘিরে ভোটের আগের দিন রাতে ও ভোটের দিন ভোট কেন্দ্রগুলোতে ব্যাপক ভাংচুর, ব্যালট বাক্স ছিনতাই পূর্বক অগ্নি সংযোগসহ ভোট গ্রহনে নিয়োজিত কর্মকর্তা ও আইন শৃঙ্খলা বাহিনির উপর হামলা চালানো হয়। কোথাও কোথাও আইন শৃঙ্খলা বাহিনির সাথে ভোট বিরোধীদের সংঘর্ষের ঘটনাও ঘটে। এদিন উপজেলার বাজিতপুর কেন্দ্রে আইন শৃঙ্খলা বাহিনির হাতে মতিয়ার রহমান নামের এক বিএনপির কর্মী নিহতসহ আইন শৃঙ্খলা বাহিনির সদস্যরাও আহত হয়। এরই আগে বর্তমান উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা শরীফ নজরুল ইসলামসহ তৎকালীন সংসদ সদস্য খান টিপু সুলতান নাশকতা কারীদের হামলায় তাদের বহনকারী গাড়ী ভাংচুরসহ তাদেরকে জখম করা হয়। ওই সময় উপজেলার ঘুঘুরাইল গ্রামের আওয়ামীলীগ নেতা ইউনুচ আলী, জয়পুর গ্রামের মান্নান, টিটো, ইব্রাহিম, হাইসহ প্রায় অর্ধশতাধিক আওয়ালীগ নেতাকর্মী গুরুতর জখম হন। এখনও অনেকে তাতের হামলার শিকার হয়ে পঙ্গুত্ব বরন করে চলেছে। উপজেলার জয়পুর গ্রামের আওয়ামীলীগ সমর্থীত ১’শ ১২ টি বাড়ীঘরে হামলা চালিয়ে লুটপাট ভাংচুরসহ নাশকতাকারীরা অগ্নিসংযোগ চালায়। এসব ঘটনায় একাধিক মামলা হয়। পরবর্তীতে ৫ জানুয়ারী জাতীয় সংসদ নির্বাচনের দিন ভোটকেন্দ্রে হামলার ঘটনায় ৬২টি টি ভোটকেন্দ্র স্থগিত করতে বাধ্য হয় সংশ্লিষ্ট প্রশাসন। এসব হামলার ঘটনায় স্ব-স্ব কেন্দ্রের দায়িত্ব প্রাপ্ত প্রিজাইডিং অফিসাররা বাদী হয়ে ভোট কেন্দ্রে হামলার ঘটনায় ৬২টি টি মামলা দায়ের করেন। ইতোমধ্যে ভোটকেন্দ্রে হামলার ঘটনায় তদন্ত পূর্বক ৬১টি মামলায় প্রায় আড়াই হাজার নাশকতাকারীদের বিরুদ্ধে চার্জশীট প্রদান করা হয়েছে। এদিকে এসব মামলা কে কেন্দ্র করে উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় সঙ্গবদ্ধ দালাল চক্ররা নাশকতাকারীদের মামলা থেকে রেহায় ও পুলিশি গ্রেফতার এড়ানোর আশ্বাস দিয়ে মোটা অংকের অর্থ হাতিয়ে নেয়া হয়েছে বলে অভিযোগ। একাধিক সুত্র জানায়, ৫ জানুয়ারী নির্বাচনের আগের রাতে আওয়ামীলীগের ভোট ব্যাংক হিসাবে পরিচিত উপজেলার ভরতপুর নতুন বাজারে আওয়ামীলীগ নেতা কর্মী ও সমর্থকদের বাড়ীঘর ও ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে হামলা চালিয়ে ভাংচুর-লুটপাট ও অগ্নি সংযোগ করে নাশকতাকারীরা। এঘটনায় ওই এলাকার নাশকতাকারী ১’শ ২৬ জনের বিরুদ্ধে মনিরামপুর থানায় মামলা হয়। কিন্তু অভিযোগ রয়েছে তাদের মামলা থেকে রক্ষা ও পুলিশি ঝামেলা এড়াতে ওই ইউনিয়নের সাবেক চেয়ারম্যান সিরাজুল ইসলাম (যিনি নিজেকে আওয়ামীলীগ ঘরনার লোক হিসেবে পরিচয় দেন), ইউপি সদস্য বাবর আলী ও এরশাদ আলী নামে এক জামায়েত নেতা মোটা অংকের অর্থ নিয়ে নাশকতাকারীদের রক্ষায় ব্যাপক তদবীর মিশনে নামে। এ বিষয়ে জেলা পুলিশ সুপারসহ বিভিন্ন দপ্তরে ভুক্তভোগীরা অভিযোগও জানায়। নাশকতার মামলার আসামী জামায়াত নেতা এরশাদ আলীর পুত্র ইলিয়াস হোসেন ইতোমধ্যে পুলিশের কারারক্ষীপদে চাকুরী জুটে নিয়েছে। এসব ঘটনায় ক্ষোভ বিরাজ করছে স্থানীয় ত্যাগী আওয়ামীলীগ নেতা কর্মীদের মাঝে। এ বিষয়ে সাবেক উপজেলা আওয়ামীলীগের সহসভাপতি ভরতপুর গ্রামের হাসান সরোয়ার ক্ষুব্ধ কণ্ঠে বলেন, যাদের নেতৃত্বে আওয়ামীলীগ নেতা কর্মীদের যান মালের ক্ষতি সাধন হল। আবার তারাই যদি সরকারী চাকুরী পায় তাহলে সে দুঃখ রাখার জায়গা কোথায়। ওই ইউনিয়ন আওয়ামীলীগের সভাপতি সাবেক চেয়ারম্যান গাজী মোহম্মাদ বলেন, সাবেক চেয়ারম্যান সিরাজ, ইউপি সদস্য কয়েক জনের বিরুদ্ধে তান্ডকারীদের রক্ষায় অভিযোগ রয়েছে অহরহ। এদিকে সাবেক চেয়ারম্যান সিরাজুল ইসলাম আওয়ামীলীগ ঘরনার লোক হিসেবে পরিচয় দিলেও তিনি নিজে কখনো আওয়ামীলীগের কার্যক্রমে অংশ নিয়েছেন বলে দলটির নেতৃত্বে থাকা কোন পর্যায়ের নেতারা জানাতে পারেনি। অভিযোগ রয়েছ্ ে২০০১ সালে বিএনপি জোট ক্ষমতায় আসলে তৎকালীন সংসদ সদস্য মুফতি ওয়াক্কাস এর কাছের লোক হিসাবে ওই সাবেক চেয়ারম্যান নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করে অনেক সুবিধা নিয়েছেন। পুলিশি অভিযানে নাশকতার অভিযোগে আটককৃতদের থানা থেকে ছড়িয়ে নিতে তদবীর মিশনে নামেন সুযোগ সন্ধানী অতিথি ”সাইবেরিয়ান পাখি” হাইব্রিড আওয়ামীলীগ নামধারী একদল দালালচক্র। খোদ থানা পুলিশও এসব তদবীর কারীদের জ্বালায় অতিষ্ঠ। পুলিশের বিভিন্ন সুত্রও এসব তদবীর কারীদের একটি তালিকা প্রস্তুত করেছেন বলে নির্ভরযোগ্য সুত্রে জানাগেছে। সুত্র আরো জানায়, উপজেলার নেংগুড়া বাজারে নাশকতাকারীদের অন্যতম অর্থ যোগানদাতা ও মাননীয় প্রধান মন্ত্রী জননেত্রী শেখ হাসিনার নামে কটুক্তিকারী রবিউল ইসলাম রবিকে স্থানীয় আওয়ামী নেতা কর্মীরা ধরে পুলিশে দিতে চাইলে প্রস্রাব নাম করে পালিয়ে যেতে সক্ষম হয়। তাকে ভাল মানুষ হিসেবে জাহির করে পুলিশি গ্রেফতার এড়াতে তদবীর মিশনে নেমেছে ওই ইউনিয়ন আওয়ামীলীগের সাধারন সম্পাদক ফজলুর রহমান, আব্দুল হামিদ সরদারসহ কয়েকজন। একই ভাবে নাশকতাকারীদের রক্ষায় থানা পুলিশের কাছে তদবীর মিশনে নামার অভিযোগ উঠেছে উপজেলার চিনাটোলা এলাকার হাইব্রিড আওয়ামীলীগ ইউপি সদস্য লিটন, নজরুল ইসলাম, ইউপি সদস্য ফজলু, রাজগঞ্জ এলাকার শামছুল আলম মন্টু, চাকলাদার আবুল বাসার, ঢাকুরিয়া এলাকার হামিদুল ইসলাম, ইউনিয়ন যুবলীগ আহ্বায়ক জুলফিক্কার আলী জুলু, শহিদুল ইসলামসহ অনেকের বিরুদ্ধে। অবশ্য সাবেক ইউপি চেয়ারম্যান সিরাজুল ইসলামসহ তদবীর মিশনকারীদের অনেকের সাথে কথা হলে তাদের বিরুদ্ধে আনিত অভিযোগ অস্বীকার করেন। সিরাজ ইসলাম বলেন, তার বিরোধী পক্ষই এমন অপপ্রচার চালাচ্ছে। নাম প্রকাশে অনেচ্ছুক মনিরামপুর থানা পুলিশের কয়েকজন উপ-পরিদর্শক জানান, নাশকতাকারীদের ধরলেই ক্ষমতাসীন দলের কিছু নেতা নাশকতাকারীদের ভাল মানুষ বানিয়ে পারলে তখনই থানা থেকে ছাড়িয়ে নিয়ে যায়। এদিকে উপজেলার একাধিক ত্যাগী আওয়ামীলীগ নেতা কর্মীরা এ প্রতিবেদকের কাছে ক্ষুব্ধ কষ্ঠে জানান, এভাবে চললে কখনো ভবিষ্যতে পট পরিবর্তন হলে এদের হাতে নিগৃহীত হওয়া সহ দলের সাংগাঠনিক বিপর্যয় ঘটবে বলে তাদের আশংঙ্কা।


এ খবর টি সোস্যাল মিডিয়াতে এ পোষ্ট করুন

এ জাতীয় আরও খবর




© All rights reserved © 2013-2022