1. admin@manirampurprotidin.com : admin :
  2. hnurul146@gmail.com : nurul :
  3. titonews24@gmail.com : Tito :
শিরোনাম :
মণিরামপুরে ইকবালকে কমিটি গঠন কার্যক্রম থেকে বিরত থাকার নির্দেশ : রোহিতার আহ্বায়ক বহিষ্কার মণিরামপুরে ২দিন ব্যাপি ডিজিটাল উদ্ভাবনী মেলার শুভ উদ্বোধন মণিরামপুরে গ্রাম ডাক্তারের ভুল চিকিৎসায় স্কুল ছাত্রীর হাতে পঁচন ।। আদালতে মামলা মণিরামপুরে সাবেক অধ্যক্ষ মাওলানা বজলুর রহমানের ইন্তেকাল আয়েবাপিসি’র সাধারন সম্পাদক বকুল খানকে যুক্তরাজ্যে বিভিন্ন সংগঠনের সংবর্ধনা সাতবাড়িয়া ইউনিয়ন পরিষদ সচিবের প্রকাশ্যে ঘুষ গ্রহন মণিরামপুর জুয়েলারী সমিতি পক্ষ থেকে কাউন্সিলর বাবুলাল চৌধুরীকে সংবর্ধনা মণিরামপুরের শীর্ষ ব্যবসায়ী রতন পালের স্ব-পরিবারে ভারত পাড়ি! কিন্তু কেন ? আয়েবাপিসি’র অভিষেক উপলক্ষ্যে মতবিনিময় করতে সাধারন সম্পাদক বকুল খানের লন্ডন সফর মনিরামপুরে ১ কেজি গাঁজাসহ মহিলা কারবারি আটক

৭১’এ নারী-শিশুকে নিরাপদে পৌঁছে দেওয়া বৃদ্ধকে স্বাধীনতা দিবসে ঘর উপহার : একটি মানবতার গল্প

  • আপডেট: বৃহস্পতিবার, ২৬ মার্চ, ২০২০
  • ৪৫২ দেখেছেন

মোঃ মনিরুজ্জামান ।।
পুরো নাম মোঃ সাহাজুদ্দিন ঢালি। বয়স কম বেশী আশি বছর। আমরা বলি সাজুদ্দি চাচা। এই ভদ্রলোক আমার গ্রামের একজন প্রবীন ব্যক্তি। জন্ম থেকেই আমারা তাকে পরিবারের সদস্য হিসাবেই জানি। তিনি আমার আব্বার সহযোগী ছিলেন।আব্বাকে ডাকতেন মিয়াভাই। আব্বা শিক্ষকতার পাশাপাশি ব্যবসা করতেন। সাজুদ্দি চাচা আব্বাকে সারাজীবন সাপোর্ট দিয়েছেন। অত্যন্ত সৎ, ধার্মিক এবং বিনয়ী সাজুদ্দি চাচা তার শেষ বয়সে আমাদের গ্রামের মসজিদে ইমামতি করতেন।
তার হাতেই আমার এবং আমার বয়সীদের অধিকাংশের আরবী ও দোয়া দরূদ শিক্ষার হাতে গড়ি হয়েছে আমাদের গ্রামের মাক্তবে। সেই হিসাবে তিনি পরিবারের বাইরে প্রথম শিক্ষকও বটে।
মার মুখে শুনেছি আমার জন্ম সংবাদ শুনে সাজুদ্দি চাচা আজান দিয়েছিলেন। উনার সাথে আমার এবং আমাদের পরিবারের সদস্যদের অনেক স্মৃতি। আব্বা সাত সকালে স্কুলে চলে যেতেন। সাজুদ্দি চাচা একটু বেলা হলে আব্বার খাবার নিয়ে বাজারে যেতেন। আব্বাকে খাওয়া দাওয়া, চা নাস্তা এনে দিতেন। আব্বা তার স্কুল নিয়েই ব্যস্ত থাকতেন, সন্ধ্যার দিকে দোকানে বসে সহকর্মী বন্ধু বান্ধবদের সাথে বসে চা খেতেন। ব্যবসা বলতে গেলে সাজুদ্দি চাচা এবং তার ছেলেই দেখতেন। আব্বা তার উপরে অনেক ভরসা করতেন, বিশ্বাস করতেন।
আব্বার মৃত্যুর পর চাচা ভীষন ভেঙ্গে পড়েছিলেন, অন্য কোথাও আর চাকরিও করেননি। আব্বা বেঁচে থাকতেই উনি আমাদের গ্রামের মসজিদে সকালে মক্তব পরিচালনা করতেন, ইমাম সাহেবের অনুপস্থিতিতে ওয়াক্তিয়া নামাজ পড়াতেন। খুব বেশী লেখাপড়া তার নেই। নিজের চেষ্টাতেই কোরান শিখেছেন। যতটুকু জানেন গ্রামের লোকজনকে শেখানোর চেষ্টা করে গেছেন ধর্মীয় নানা বিষয়ে দীর্ঘদিন ধরে।
দরিদ্র এ মানুষটিকে আব্বা তার জীবদ্দশায় সাধ্যমতো পৃষ্ঠপোষকতা করে গেছেন। আব্বার মৃত্যুর পর আমি চেষ্টা করেছি তার পাশে দাঁড়ানোর। আমার গ্রামসহ এলাকাবাসীর উন্নয়নের জন্য আমি যৎসামান্য যেসব উদ্যোগ নিয়েছি তিনি তার ভঙ্গুর শরীর নিয়ে সব সময় পাশে থেকেছেন, সহায়তা করেছেন।
মার্চের প্রথম সপ্তাহে একদিনের জন্য বাড়ী গিয়েছিলাম। আব্বার কবর জিয়ারত করে কবরস্থান থেকে বেরুতেই দেখি চাচী দাঁড়িয়ে আছেন আব্বার টিনের ঘরের সিঁড়িতে। উল্লেখ্য যে, পুরানো যেসব মানুষের আমাদের বাড়ীতে দীর্ঘদিন যাতায়াত ছিল তারা কেন জানি এখনো প্রায় পরিত্যক্ত টিনের ঘরের সিঁড়িতে গিয়েই বসেন। হয়তোবা মনের অজান্তেই আব্বা বা মায়ের পাশে যেখানে গিয়ে বসতেন সেই স্মৃতিই তারা ধারণ করেন।
চাচীকে চাচার কথা জিজ্ঞেস করতেই কান্নাকাটি শুরু করলেন। বললেন তোমার চাচা ভাল নেই, অসুখটা বড্ড বেশী। আমাদের পরিবারের পক্ষ থেকে বয়স্ক মানুষদের বছর জুড়েই মেডিকেল ক্যাম্পের মাধ্যমে চিকিৎসা ও ঔষুধ সরবরাহ করা হয়।
খাবার এবং চিকিৎসার ব্যবস্থা আমরা সাধ্যমত চেষ্টা করলেও সামর্থ্যের অভাবে বাসস্থান নিয়ে মাথা ঘামাতে পারিনি। বললেন তার ঘরটির অবস্থা করুন। চাল নেই, বেড়া নেই। বৃষ্টি হলেই অসুস্থ্য ও বৃদ্ধ এ দম্পত্তি জড়োসড়ো হয়ে বসে বসে আল্লাহ্ কে ডাকতে থাকে।
চাচী অনুরোধ করলেন আমি যেন গিয়ে ঘরটা একটু দেখে আসি। আমি খোঁজ নিয়ে দেখলাম তার ঘরের অবস্থা আসলেই করুন। ‘দু’ কামরার টিনের ঘর। একটাতে সস্ত্রীক তিনি, আর একটাতে পরিবারসহ তার ছোট ছেলে থাকে। ছেলেদের অবস্হাও তথৈবচ। বাবা মাকে দুবেলা দুমুঠো খাবার দিতে পারলেও ঘর ঠিক করে দেয়ার সামর্থ্য তাদের নেই।
যাহোক একজন মিস্ত্রী কে দেখালাম। টিন, বাঁশ, মিস্ত্রী খরচ সবমিলে খরচ একেবারে কম নয়। গ্রামে আমরা ‘‘সালেহা কবীর জীবন ফাউন্ডেশন’ নামে আমার বাবা মা এবং প্রয়াত সন্তানের নামে একটা ফাউন্ডেশন চালাই। মূলত শিক্ষা স্বাস্থ্য, দারিদ্য দূরীকরন, মেধাবৃত্তি ইত্যাদি প্রোগ্রামের মাধ্যমে সুবিধা বঞ্চিতদের পাশে থাকার চেষ্টা করি। পরিবারের সদস্যদের স্বেচ্ছা প্রদত্ত অর্থ, আব্বার সম্পত্তির অর্থ থেকে ব্যক্তিগত প্রচেষ্টায় আমি এটি পরিচালনা করি এলাকার কিছু তরুন ছাত্র,যুবকও স্বেচ্ছা সেবকদের মাধ্যমে।
ফাউন্ডেশনের ভলান্টিয়ারদেরকে বলার সাথে সাথে তারা নিদারুন উৎসাহ উদ্দীপনা নিয়ে মাত্র সপ্তাহ খানেকের মধ্যেই বলতে গেলে পুননির্মান করল সাজুদ্দি চাচা ও চাচীর স্বপ্নের বসত ভিটা।
তারাই সিদ্ধান্ত নিল মহান স্বাধীনতা ও জাতীয় দিবসে এই প্রবীন দম্পতি কে ঘর বুঝিয়ে দেয়া হবে। নানা ব্যস্ততায় এদের অগ্রগতির খবরা খবর সবসময় নিতে পারিনি। স্বাধীনতা দিবসের প্রথম প্রহরে সোশ্যাল মিডিয়াতে চাচা চাচীর স্বপ্নের ঠিকানার ছবি দেখলাম। লাল সবুজ রঙে রঙীন টিনের ভাজে ভাজে এক অসহায় বৃদ্ধ-বৃদ্ধার স্বপ্নের বাস্তবায়ন দেখে অসম্ভব এক ভাললাগায় মন ভরে গেল।
মেধা, শ্রম আর আন্তরিকতা দিয়ে যারা সহযোগিতা করেছেন তাদের সকলকে বিশেষ করে তরুন ভলান্টিয়ার উজ্জল ও তার টিমকে আন্তরিক কৃতজ্ঞতা জানাচ্ছি।
একাত্তরের যুদ্ধ দিনে পাক হানাদার বাহিনী ও তাদের দোসরদের কবল থেকে গ্রামের সাধারন মানুষ বিশেষ করে নারী ও শিশুদেরকে অপেক্ষাকৃত নিরাপদ এলাকায় পৌঁছাতে গ্রাম থেকে যেসব কিশোর বালকরা সহায়তা করেছেন সাজুদ্দি চাচা তাদের অন্যতম। গ্রামের মুক্তিযোদ্ধা ও প্রবীনদের কাছে তার অনেক গল্প শুনেছি।
মহান স্বাধীনতা ও জাতীয় দিবসে আল্লাহওয়ালা পরহেজগার এই বৃদ্ধ দম্পতিকে ৩৩ফুট বাই ২০ ফুটের দুকামরার একটি ছোট্ট আশ্রয় করে দিতে পেরে আমি এবং সালেহা কবীর জীবন ফাউন্ডেশন গর্বিত। রাব্বুল আলামিন আমাদেরকে অন্যের কাজে লাগার তৌফিক দান করুন।

লেখক:
অতিরিক্ত ডিআইজি
এন্টি টেরোরিজম ইউনিট
বাংলাদেশ পুলিশ


এ খবর টি সোস্যাল মিডিয়াতে এ পোষ্ট করুন

এ জাতীয় আরও খবর




© All rights reserved © 2013-2022