1. admin@manirampurprotidin.com : admin :
  2. hnurul146@gmail.com : nurul :
  3. titonews24@gmail.com : Tito :
শিরোনাম :
হাইকোর্টের নির্দেশে কেশবপুরে অবৈধ “রোমান ব্রিকস” ভেঙ্গে দিল প্রশাসন মাদ্রিদে হবিগঞ্জবাসীর মিলন মেলায় মুখরিত লাভপিয়েছ মণিরামপুরের জুড়ানপুর বালিকা বিদ্যালয়ের সহকারী প্রধান শিক্ষককে হাজিরা খাতায় স্বাক্ষরে বাঁধা মালিতে জাতিসংঘ শান্তিপদক পেলেন বাংলাদেশের ১৩৯ জন শান্তিরক্ষী কেশবপুর উপজেলা চেয়ারম্যানকে হত্যার হুমকির প্রতিবাদে মানববন্ধন ও বিক্ষোভ মণিরামপুরে সাংবাদিক পুত্র মাহির গোল্ডেন জিপিএ-৫ লাভ মণিরামপুরে ইকবালকে কমিটি গঠন কার্যক্রম থেকে বিরত থাকার নির্দেশ : রোহিতার আহ্বায়ক বহিষ্কার মণিরামপুরে ২দিন ব্যাপি ডিজিটাল উদ্ভাবনী মেলার শুভ উদ্বোধন মণিরামপুরে গ্রাম ডাক্তারের ভুল চিকিৎসায় স্কুল ছাত্রীর হাতে পঁচন ।। আদালতে মামলা মণিরামপুরে সাবেক অধ্যক্ষ মাওলানা বজলুর রহমানের ইন্তেকাল

হোম কোয়ারেন্টাইনে থেকে ফ্রিল্যান্সিং শেখাটা হতে পারে সময়াপোযোগী সিদ্ধান্ত

  • আপডেট: বৃহস্পতিবার, ২ এপ্রিল, ২০২০
  • ৬২১ দেখেছেন

হাদিউজ্জামান পলক।।
বিশ্বজুড়ে মহামারী করোনাভাইরাসে বেশিরভাগ মানুষ হোম কোয়ারেন্টাইন বা লকড ডাউন এ আছেন। এই সময়ে কি করবেন? কিভাবে সময় কাটাবেন? যারা এমনটা ভাবছেন, তাদের জন্য ফ্রিল্যান্সিং শেখাটা হতে পারে সময়াপোযোগী সিদ্ধান্ত। কারণ, এরকম দীর্ঘ সময় পাওয়াটা কিন্তু সত্যিই কঠিন। দিনের পর দিন বিশেষ কারণ ছাড়া কেউ ঘরে থাকতে চান না। এই সুযোগটা আমরা সঠিক জায়গায় কাজে লাগাতে পারি।

ফ্রিল্যান্সিং আসলে কি?
———————–

ঘরে বসে ইন্টারনেট এর মাধ্যমে আয় করার মাধ্যমই ফ্রিল্যান্সিং।
ফ্রিল্যান্সিং প্রথম শুরু হয়েছিলো ১৯৯৮ সালের দিকে। অনলাইনে একটা মার্কেটপ্লেস খোলা হয়েছিলো, সেখান থেকেই বলতে গেলে ফ্রিল্যান্সিংয়ের শুরু।
এখানে দুই পক্ষ থাকেন। ক্লায়েন্ট আর ফ্রিল্যান্সার। ক্লায়েন্ট ফ্রিল্যান্সারকে শর্তসাপেক্ষে বিভিন্ন কাজ দিয়ে থাকেন, আর একটা নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে কাজ শেষ করে ক্লায়েন্টকে পাঠিয়ে দিতে হয়। ক্লায়েন্টের সাথে কাজ শুরুর আগেই চুক্তি করা হয় পারিশ্রমিক নিয়ে। সাধারণত ইনস্টলমেন্ট/অগ্রীম/কাজ শেষ হলে ক্লায়েন্ট ফ্রিল্যান্সারকে তার প্রাপ্য বুঝিয়ে দেন।

ফ্রিল্যান্সিং করে আয় করার প্রথম কথাই হল দক্ষতা। আপনি যত বেশি দক্ষতা দেখাতে পারবেন আপনার আয় তত বেশি হবে।

ফ্রিল্যান্সিং শুরু করার জন্য অবশ্যই কোন একটি বিষয়ে দক্ষতা থাকতে হবে। দক্ষতা অর্জনের জন্য ইন্টারনেট সার্ফিং সব থেকে ভাল। ইন্টারনেটে অসংখ্য সোর্স থেকে আপনার পছন্দের বিষয়টিতে এক্সপার্ট হতে পারেন। আপনি যদি কম্পিউটারের একাধিক বিষয়ের কাজের ক্ষমতা রাখেন, তবে স্বাভাবিকভাবেই আপনি একটি বড় স্কেলে কাজ করতে সক্ষম হবেন।

দক্ষতা, আবারও বলছি দক্ষতাই হল সফলতার মূল কথা। আপনি দক্ষ হলে বিষয় কোন কিছুই না।

আর, দক্ষতার সাথে একটি জিনিস রয়েছে তাহলো ভাললাগা এবং আগ্রহ। যে বিষয়ে কাজ করতে আপনি স্বাচ্ছন্দ্যবোধ করেন সেটা নিয়েই আপনার কাজ করা উচিত।

ফ্রিল্যান্সিং মার্কেটপ্লেস
———————–
হাজার হাজার ক্যাটাগরীর কাজ পাবেন ফ্রিল্যািন্সং মার্কেটপ্লেসগুলোতে। তার মধ্যে ওয়েব ডিজাইন এন্ড ডেভলপমেন্ট, গ্রাফিক্স ডিজাইন, কনটেন্ট রাইটিং, এসইও, ভিডিও ও অডিও এডিটিং, এডমিন রিলেটড কাজ, ডাটা এন্ট্রি, কাস্টমার সার্ভিস ইত্যাদি।
এরকম কাজসমূহ দেখতে ক্লিক করুন এই লিংকে: https://www.upwork.com/hire/
https://www.freelancer.com/job/
https://www.fiverr.com/
https://99designs.com/
https://www.behance.net/joblist
https://www.guru.com/
https://www.peopleperhour.com/
https://clarity.fm/
https://gigster.com/
https://www.toptal.com/
https://www.zirtual.com/
https://creativemarket.com/
https://themeforest.net/

ক্রিয়েটিভ ডিজাইন:
——————–
ডিজাইনিং এর অনেক ধরনের কাজ আপনি এখানে পাবেন। আপনাকে এর জন্য ফটোশপ, ইলাস্ট্রেটরের কাজ জানতে হবে। এছাড়া ডিজাইনিং এর আরো অনেক ধরনের সফটওয়ার আছে যেগুলো সম্পর্কে আপনার পূর্ণ ধারণা থাকতে হবে। তা না হলে ডিজাইনিং এর কাজ আপনি করতে পারবেন না। কারণ ক্লায়েন্টের চাহিদা মাথায় রেখে এক এক সময় এক এক ধরনের ডিজাইন আপনাকে করতে হবে। বিভিন্ন ধরনের ডিজাইনিং এর কাজ আছে। যেমনঃ

১। প্রেজেন্টেশন
২। ফটো এডিট
৩। ব্র্যান্ড আইডেনটিটি
৪। লোগো ডিজাইন
৫। ইলাস্ট্রেশন
৬। এডোবি ফ্রেমমেকিং
৭। মোশন গ্রাফিক্স
৮। ফটোগ্রাফি ইত্যাদি

রাইটিং
——-
এই কাজ করার জন্য আপনাকে সৃজনশীল হতে হবে। কারণ আপনাকে বিভিন্ন ধরনের টপিক্স এর উপর লিখতে হতে পারে। আপনাকে ক্লায়েন্ট যে রাইটিং এর কাজ দিবে আপনাকে প্রথমে সে বিষয়ে রিসার্চ করতে হবে। তারপর পূর্ণ একটা ধারণা লাভ করার পর ঐ বিষয়ে লেখা শুরু করতে হবে। নিচে কিছু কাজের নমুনা দেওয়া হলো:

১। বিজনেস প্লান রাইটিং
২। ক্রিয়েটিভ রাইটিং
৩। একাডেমিক রাইটিং
৪। ওয়েবসাইট কনটেন্ট রাইটিং
৫। টেকনিক্যাল রাইটিং
৬। সি.ভি ও কভার লেটার রাইটিং
৭। কপিরাইটিং
৯। অ্যার্টিকেল ও ব্লগ পোস্ট রাইটিং
১০। নিউজ কনটেন্ট রাইটিং ইত্যাদি

অডিও এবং ভিডিও প্রোডাকশন
———————————-

আপনি যদি ভাল ভিডিও ধারণ করতে পারেন। তাহলে আপনি এখানে ভিডিও নিয়ে কাজ করতে পারেন। অনেকেই আছে এখানে ভিডিও কেনা বেচা করে থাকে। অনেক ইনকাম আসবে এখান থেকে। অন্যদিকে আপনি যদি ভিডিও এডিট করতে পারেন তাহলেও অনেক জব পাবেন এখান থেকে। তবে ভিডিও বা অডিও এর কাজ করতে হলে আপনাকে অনেক গুলো অডিও এবং ভিডিও এর সফটওয়ারের কাজ জানা লাগবে।

অ্যাডমিন জবস
—————–
এই ধরনের কাজ মূলত ডাটা এট্রি, ওয়েব রিসার্চ ইত্যাদি ধরনের হয়ে থাকে। যেমনঃ

১। ডাটা এট্রি
২। ট্রান্সক্রিপশন
৩। ভারচুয়াল অ্যাসিস্ট্যান্স
৪। প্রোজেক্ট ম্যানেজমেন্ট
৫। ওয়েব রিসার্চ ইত্যাদি

ওয়েব ডিজাইনিং এবং সফটওয়ার ডেভেলপমেন্ট
————————————————–
আপনি যদি কোডিং এ ভাল হয়ে থাকেন। তাহলে আপনি ওয়েব ডিজাইনিং এবং সফটওয়ার ডেভেলপমেন্টের কাজ করতে পারেন। এই ধরনের কাজের পেমেন্টও বেশি হয়ে থাকে। আপনাকে চাহিদা মোতাবেক যে কোন ধরনের সফটওয়ার তৈরি করতে হতে পারে। তাই ভাল ভাবে এই বিষয়ে জ্ঞান থাকতে হবে। কিছু নমুনা দেওয়া হলো–

১। অফিস ম্যানেজমেন্ট সফটওয়্যার
২। টালি সফটওয়্যার
৩। ইকর্মার্স ওয়েবসাইট
৪। অ্যাপস ডেভলপমেন্ট
৫। পোর্টফোলিও ওয়েবসাইট
৬। নিউজ এজেন্সী ইত্যাদি

ট্রান্সলেশন
———–
আপনি যদি বিভিন্ন দেশের ভাষা বুঝে থাকেন। তবে এই কাজ আপনার জন্য উপযোগী। কারণ ট্রান্সলেশনের মত অনেক কাজ আছে এখানে। শুধু মাত্র ক্লায়েন্টদের চাহিদা মোতাবেক একটা কনটেন্ট কে অন্য ভাষায় রূপান্তরিত করে দিতে হবে।

অন্যান্য কাজ সমূহ
——————–
এছাড়া আরো অনেক কাজ আছে। যে গুলো সম্পর্কে আপনার আলাদা আলাদা জ্ঞান থাকার পাশাপাশি কাজ জানা থাকতে হবে। যেমনঃ

১। কনসালটেশন এবং অ্যাকাউন্টিং
২। ডাটা সাইন্স ও এনালাইটিক্স
৩। আইটি ও নেটওয়ার্কিং
৪। কাস্টমার সার্ভিস
৫। সেলস এবং মার্কেটিং
৬। ইঞ্জিনিয়ারিং এবং আর্কিটেকচার ইত্যাদি

Freelancing এবং Outsourcing এর মধ্যে পার্থক্য কি?
————————————————————–
এই বিষয়টি নিয়ে সবাই দ্বন্দ্বে থাকে। বিষয়টি পরিস্কার করা জরুরী।

যে কাজটি করে দিচ্ছে তাকে বলা হয় Freelancer, অর্থাৎ সে Freelancing করছে ;
আর যিনি কাজটি করাচ্ছেন তিনি Outsourcing করছেন, যার মানে হল তিনি বাইরে থেকে কাজটি করিয়ে নিচ্ছেন । আশা করছি, বিষয়টি আপনাদের নিকট পরিস্কার হয়েছে। 🙂

ভালো মানের ফ্রিল্যান্সার হতে হলে যা জরুরী
————————————————
১. ইংরেজি লেখা এবং বলায় দক্ষতা
২. কম্পিউটারের মৌলিক বিষয়ে দক্ষতা
৩. টাইপিং স্পিড ও নেট স্পিড সুপার হতে হবে।
৪. ভালো মানের প্রোফাইল বা পোর্টফোলিও ওয়েসবাইট থাকতে হবে।
৫. নিজেকে প্রেজেন্টেবল করতে হবে।
৬. যে কোনো একটি কাজে পারদর্শী হতে হবে।
৭. প্রচুর পড়াশুনা কিংবা রিসার্চ করার মানসিকতা থাকতে হবে।
৮. নেটওয়ার্কিং ভালো জানতে হবে।
৯. সোশ্যাল মিডিয়ায় একটিভ হতে হবে।
১০. সময় দিতে হবে।

কোনো এজেন্সী আপনাকে ভালো ফ্রিল্যান্সিং শেখাতে পারবে না যদি আপনি নিজে প্রচুর পড়াশুনা না করেন। এজন্য আপনাকে নিয়মিত গবেষণা করতে হবে। ইউটিউবে অনেক ধারণা পাবেন। সময়কে কাজে লাগান। আরেকটা কথা, ফ্রিল্যান্সিং এ লেগে থাকাটা জরুরী। রাতারাতি সফলতা পাবেন না। ধৈর্য্য ধরে শুধু শেখার চেষ্টায় নিয়োজিত থাকুন। সফলতা আসবেই। সবার জন্য শুভ কামনা রইলো। ঘরে থাকুন, ফ্রিল্যান্সিং শিখুন।

লেখক :
সিইও
জটিল ডট কম


এ খবর টি সোস্যাল মিডিয়াতে এ পোষ্ট করুন

এ জাতীয় আরও খবর




© All rights reserved © 2013-2022