1. admin@manirampurprotidin.com : admin :
  2. hnurul146@gmail.com : nurul :
  3. titonews24@gmail.com : Tito :
শিরোনাম :
কেশবপুর উপজেলা চেয়ারম্যানকে হত্যার হুমকির প্রতিবাদে মানববন্ধন ও বিক্ষোভ মণিরামপুরে সাংবাদিক পুত্র মাহির গোল্ডেন জিপিএ-৫ লাভ মণিরামপুরে ইকবালকে কমিটি গঠন কার্যক্রম থেকে বিরত থাকার নির্দেশ : রোহিতার আহ্বায়ক বহিষ্কার মণিরামপুরে ২দিন ব্যাপি ডিজিটাল উদ্ভাবনী মেলার শুভ উদ্বোধন মণিরামপুরে গ্রাম ডাক্তারের ভুল চিকিৎসায় স্কুল ছাত্রীর হাতে পঁচন ।। আদালতে মামলা মণিরামপুরে সাবেক অধ্যক্ষ মাওলানা বজলুর রহমানের ইন্তেকাল আয়েবাপিসি’র সাধারন সম্পাদক বকুল খানকে যুক্তরাজ্যে বিভিন্ন সংগঠনের সংবর্ধনা সাতবাড়িয়া ইউনিয়ন পরিষদ সচিবের প্রকাশ্যে ঘুষ গ্রহন মণিরামপুর জুয়েলারী সমিতি পক্ষ থেকে কাউন্সিলর বাবুলাল চৌধুরীকে সংবর্ধনা মণিরামপুরের শীর্ষ ব্যবসায়ী রতন পালের স্ব-পরিবারে ভারত পাড়ি! কিন্তু কেন ?

ডাইরি ভরা অব্যক্ত অভিমান

  • আপডেট: শুক্রবার, ১৫ মে, ২০২০
  • ৭৬৬ দেখেছেন

মোঃ শাহ্ জালাল।।
শুরুটা কেমন হবে তা ঠিক জানিনা। পশ্চিম আকাশের কোনে আজ কালো মেঘের আড়ালে হালকা দমকা হাওয়ায় কি যেন ভেসে বেড়াচ্ছে। বেশ মনে পড়ছে হারিয়ে যাওয়া দিনগুলোর স্মৃতি। জীবনটা আজ বড্ড অভিমানী। অভিমান জানান দিচ্ছে দমকা হাওয়া আর অঝর ধারার বর্ষণে। ৭০ বছর বয়সী জালাল সাহেবের মোটা ফ্রেমের চশমার কাঁচ বারবার সিক্ত হচ্ছে বৃষ্টির ফোঁটায়। কিন্ত, সেদিকে কোন ভ্রুক্ষেপ নেই। ঝাপসা কাঁচের আভাতে মনের কোণে জমা থাকা স্মৃতিগুলোতে যেন আরো একবার প্রাণ সঞ্চার হচ্ছে৷ পিছন থেকে ডাক পড়লো “কি গো শুনছো, সে কবে থেকে এমন বৃষ্টির মধ্যে বসে আছো। পরে যখন জ্বর বাঁধাবে তখন কার শরীরের ওপর ধকল যাবে শুনি। আমার হয়েছে যত জ্বালা। নাতী এতক্ষণ জ্বালিয়ে ছাড়লো তার বৃষ্টিতে ভেজার বায়না দিয়ে। তাকে তো বুঝিয়ে সুজিয়ে গল্প শোনাবো বলে রুমে পাঠিয়ে দিয়েছে। কিন্তু, নাতীর দাদু এই বুড়ো জালাল দেখছি কোন কথা কানেই নিতে চাইনা৷ একদিন সত্যি সব ছেড়ে বনবাসে চলে যাবো।”
মায়া’র গলার স্বরে যেন জালাল সাহেব অতীত থেকে বর্তমানে ফিরে এসেছে। কিন্তু, আজ তার মায়া’র চোখের দিকে তাকাতেও অপরাধবোধ হচ্ছে। যে মানুষটার সাথে ৫০ বছরের সংসার নামক গাড়ি চলছে শুধু সেই মানুষটাকে তিনি শুধু দায়িত্ব হিসেবেই ভেবেছেন, কখনো তার মন বোঝার চেষ্টা করেন নি। সকল মানুষের যে তার জীবনসঙ্গীর কাছ থেকে কিছু চাওয়া থাকতে পারে এই সহজ কথাটি তার মনে একবারের জন্যেও আসেনি!
“কি গো, ভিজেতো একাকার হয়ে গেলে। পাঞ্জাবী বিছানার উপর রাখা আছে। পাল্টে চা টা খেয়ে নিও। বৌমা তোমার টেবিলের উপর রেখে এসেছে। মশাইতো এই যে বই নিয়ে বসবে আর তাকে খুঁজে পায় কে “। জালাল সাহেব মনে মনে ভাবছেন, ঠিক বলেছ মায়া। আজ বই নয় পড়বো তোমার ডায়েরি, যে ডায়েরিতে প্রতিটি পাতায় কলমের কালিতে জীবন্ত হয়ে তোমার সকল অব্যক্ত অভিমান।
জালাল সাহেব পেশায় ছিলেন শিক্ষক তবে বড্ড বদমেজাজি ও রসিক মানুষ। সময়ের নিয়মে রিটায়ারম্যান্ট হয়ে গেলেও বইয়ের প্রতি তার ভালোবাসা একটুও কমেনি। চাকরিরত অবস্থায় যেমন
বইকে সাথে নিয়ে তার দিনের শুরু ও শেষ হতো চাকরি থেকে অবসরের পরেও সে নিয়মের কোন বদল ঘটেনি।
জালাল সাহেবের বইয়ের তাকে কারো হাত দেওয়ার অনুমতি নেই৷ এমন কি মায়া’রও নয়। নিজের চেয়ে বেশি তিনি তার বইয়ের যত্ন নেন। তার আরকেটি অভ্যাস হচ্ছে বইয়ের কোন লাইন পছন্দ হলে বা কোন তথ্য থাকলে সেটি ডায়েরিতে নোট করে রাখা। গতকাল রাতে তার পুরনো একটি ডায়েরি তিনি কিছুতেই খুঁজে পাচ্ছিলেন না। অন্যসময় কিছু খুঁজে পেলে তাকে এতোটা বেগ পোহাতে হতোনা। মায়া কিছু খুঁজে দিতে বললেই তার মুখের কথা শেষ হওয়ার আগেই খুঁজে না পাওয়া জিনিসটি তার সামনে হাজির হয়ে যায়। কিন্তু অতো রাতে আর মায়া’র ঘুম ভাঙ্গতে জালাল সাহেবের মন সায় দিলোনা। হয়তো পুরনো বই রাখার ড্রয়ারে থাকতে পারে, সে ভেবে জালাল সাহেব ড্রয়ার খুলে খোঁজাখোজির এক পর্যায়ে আবিষ্কার করে একটি নীল মলাটের ডায়েরি। এটিতো তার ডায়েরি নয়। তবে কার!
ডায়েরির প্রথম দুই পাতার উল্টোনোর পর তিনি দেখতে পান খুব নৈপুণ্যের সাথে তার আর মায়া’র নাম বড় বড় অক্ষরে লেখা। জালাল সাহেব অবাক হয়ে বলেন “ মায়া ডায়েরি লিখতো! আর আমি কিনা কখনো বুঝতেই পারিনি”! ডায়েরিতে মায়া তাদের প্রথম দেখা হওয়া, বাসর রাতের বিড়াল মারা কাহিনী, প্রথম সন্তানের মা হওয়ার অনুভূতি সব এক অব্যক্ত আবেগ মিশিয়ে লিপিবদ্ধ করে রেখেছেন। জালাল সাহেবের পড়তে বেশ ভালোই লাগছিলো। পুরনো স্মৃতি গুলো তার সামনে আবার রঙ্গিন করে ধরা দিচ্ছে। কিন্তু, যতই ডায়েরির পাতা ফুরিয়ে আসছে ততই এক টুকরো কালো মেঘ যেন জালাল সাহেবের মনকে গ্রাস করে নিচ্ছে।
” আজ তিনি কাজ শেষ করে একটু জলদি বাড়ি ফিরে এসেছেন। সাথে দেখছি একটি হলুদ রংয়ের শাড়ি। আমার প্রিয় রং যে হলুদ সেটা তিনি কি করে জানলেন। তার মানে আমাদের বিবাহবার্ষিকীর কথা তিনি ভুলেননি। এমনটা ভাবনার সাথে পৃথিবীর সমস্ত সুখ যেন আমার ঘিরে ধরেছিলো। কিন্তু একটু পর যখন তিনি এসে বললো আজ তার বন্ধুর স্ত্রীর জন্মদিন, শাড়িটা তার জন্য। তখন বুঝলাম হঠাৎ পাওয়া সুখের চেয়ে হঠাৎ আসা কষ্টের বোঝা অনেক বেশি। ”
জালাল সাহেবের চোখের নোনা জলে কয়েকটি শব্দ ঝাপসা হয়ে গেছে। তার ঠিক পরের পাতায় লেখা,
“হলুদ শাড়ি, নদীর তীরে হাত ধরে হাঁটা, তারা বিছানো আকাশের নিচে সারারাত ছাদে বসে গল্পের ইচ্ছেগুলো ডায়েরির শব্দের মতো মনের খাঁচায় বন্দী করে নিলাম”। জালাল সাহেব আজ বুঝলেন পাশে থেকেও দুটো মানুষ কতটা দূরে থাকতে পারে।
” কি গো, দুপুরের খাবার যে ঠান্ডা হয়ে গেলো। এবারতো দরজাটা খুলো। ” জালাল সাহেব দরজা খুলে মায়া’র সামনে দাঁড়িয়ে তার হাত দুটো ঝাপটে নিজের বুকের মাঝে রাখকেন। “বউ ছেলের সামনে বুড়ো করছে কি”। ” হলুদ রংয়ের শাড়ি কিন্তু তোমাকে এখনো পড়লে বেশ লাগবে। নদীর পাড়ে ভীড় বেশি, বুড়োকে একটু সামলে রাখতে হবে। আর তারা গুলো কিন্তু দুজন একসাথে গুনবো। আমাদের না হয় শেষ থেকে শুরু হোক।” মায়া যেন তার চেনা মানুষটাকে আজ আবার নতুন করে চিনলো।

লেখক,
কবি, সাহিত্যিক ও সাংবাদিক


এ খবর টি সোস্যাল মিডিয়াতে এ পোষ্ট করুন

এ জাতীয় আরও খবর




© All rights reserved © 2013-2022