1. admin@manirampurprotidin.com : admin :
  2. hnurul146@gmail.com : nurul :
  3. titonews24@gmail.com : Tito :
শিরোনাম :
কেশবপুর উপজেলা চেয়ারম্যানকে হত্যার হুমকির প্রতিবাদে মানববন্ধন ও বিক্ষোভ মণিরামপুরে সাংবাদিক পুত্র মাহির গোল্ডেন জিপিএ-৫ লাভ মণিরামপুরে ইকবালকে কমিটি গঠন কার্যক্রম থেকে বিরত থাকার নির্দেশ : রোহিতার আহ্বায়ক বহিষ্কার মণিরামপুরে ২দিন ব্যাপি ডিজিটাল উদ্ভাবনী মেলার শুভ উদ্বোধন মণিরামপুরে গ্রাম ডাক্তারের ভুল চিকিৎসায় স্কুল ছাত্রীর হাতে পঁচন ।। আদালতে মামলা মণিরামপুরে সাবেক অধ্যক্ষ মাওলানা বজলুর রহমানের ইন্তেকাল আয়েবাপিসি’র সাধারন সম্পাদক বকুল খানকে যুক্তরাজ্যে বিভিন্ন সংগঠনের সংবর্ধনা সাতবাড়িয়া ইউনিয়ন পরিষদ সচিবের প্রকাশ্যে ঘুষ গ্রহন মণিরামপুর জুয়েলারী সমিতি পক্ষ থেকে কাউন্সিলর বাবুলাল চৌধুরীকে সংবর্ধনা মণিরামপুরের শীর্ষ ব্যবসায়ী রতন পালের স্ব-পরিবারে ভারত পাড়ি! কিন্তু কেন ?

কিপ্টে ফজর

  • আপডেট: মঙ্গলবার, ২ জুন, ২০২০
  • ৭৬৫ দেখেছেন

সফিয়ার রহমান।।
আলোমতির প্রসব বেদনার চিৎকারে পাড়ার লোকের হাতের কাজ থেমে গেল। লিচুর মা এলাকার সেরা দাঁই। তার জানা নানা কৌশল অবলম্বন করেও কাক্সিক্ষত ফল পাচ্ছে না। অবশেষে তার মাথার চুলের আগা আলোমতির মুখে ঘুরাতে লাগল। আলোমতি ওয়াক টানতে লাগল। এতেই আশানুরুপ ফল পাওয়া গেল। ফজরের আজান পড়ার পরপরই পুত্র সন্তানের জন্ম হল। বাড়ির কালোমুখগুলো আনন্দে হেসে উঠল। ছেলে হয়েছে বিধায় আজান দিতে হবে। আপনজন আজান দিতে হয়। আলোমতির দেবর কাদের ওযু করে আজান দিতে গেল, মাঝপথে ভুল করে থেমে গেল। শেষে মসজিদের মুয়াজ্জিন ডেকে এনে সমাধান করা হল। মেয়ে জন্মালে এ সমস্যা হতো না। মেয়ে জন্মালে আজান দেয় না।
সকাল বেলা আলোমতির শ্বশুর হজ্ব না করেও হাজি গামছা মাথায় দিয়ে বাতাসা বিলাতে লাগল। উঠোনে জলচৌকির উপর বসে স্ত্রীর বানানো পান চিবাতে চিবাতে বলল, আমার ভাইগো ফজরের আজানের পর দুনিয়ায় আয়েছে তাই তার নাম রাখলাম ফজর আলি।
ফজর আলি হাই স্কুলে পড়ে কিন্তু বড্ড হিসাবী। মায়ের শাড়ির আঁচল, বাপের পাঞ্জাবীর পকেট হাতড়ে যে পয়সা চুরি করে তা মিষ্টি না খেয়ে মাটির ব্যাংকে জমায়। বন্ধুরা মিষ্টি খায়, ফজর আলি মাটির ব্যাংক নাড়া দিয়ে পরম তৃপ্তি পায়। বাপের কাছে অনেক বলাবলি করে একবার পাঁচ কাটা জমি নিয়ে পাটের চাষ করল। ফজর আলির কপাল খুলে গেল। সে বছর হঠাৎ করে দুই শ টাকার পাট, সাত শ টাকা মন হল। ফজর আলির হাতে এখন বেশ টাকা। অনেক ভেবে চিন্তে সুদে কারবার শুরু করল। সুদে টাকা এলাকায় ছেড়ে দিয়ে পড়াশুনায় মন দিল। লেখাপড়ায় তেমন মন বসে না কিন্তু সমস্যা হয় না। ফজর আলি পরীক্ষার হলে নকল করে সবাই জানে কিন্তু ধরার কোন উপায় নেই। তুখোড় নকলবাজ। তরতর করে ক্লাসের পর ক্লাস ফজর আলি পার হয়ে যায়।
বি এ পাশ করার পর বি এ পাশ এক বান্ধুবীকে ইয়ে করে বিয়ে করে বাড়ি ফিরল। এলাকায় ঢি ঢি পড়ে গেল। মুরব্বিরা বলছে, গাই বাছুর সুমান হয়ে গেছে। কচি মেয়ে বিয়ে না করায় ফজর আলির বেশ লাঞ্চনা ভোগ করতে হল। মানুষ জানে না, ফজর আলি কাঁচা কাজ করে না।
নারী শিক্ষার উন্নয়ন এবং মেয়েদের পর্দার কথা ভেবে এলাকার নামকরা রাজগঞ্জ হাই স্কুলের পাশে গড়ে উঠল গার্লস স্কুল। ফজর আলি সমাজ সেবক সেজে স্কুলের উন্নয়নে উঠে পড়ে লেগে গেল। এলাকায় ভর দুপুরেও ঘুরে ঘুরে ধান, চাল, বাঁশ, কাঠাল আদায় করে স্কুল ফান্ড ভরে দিল। স্কুল কর্তৃপক্ষের নজর পড়ল ফজর আলির উপর। ফজর আলি খুব কাছের লোক হয়ে গেল।
ফজর আলি সংসার জীবনে এক কেজি মাংশ কিনেছে এমন রেকর্ড নেই। সেই ফজর আলি ব্যাগ ভর্তি বাজার করে ভ্যানে চেপে বাড়ি এল। তিন রকম গোশসহ চৌদ্দ রকম রান্না করে স্কুল কমিটির সমস্ত লোক উদারপূর্তি করে খাওয়ায়ে দিল। ঠ্যাকে যত কড়ি ছিল সব ঝেড়ে দিয়ে ফজর আলি স্বামী স্ত্রী দু’জনে নতুন প্রতিষ্ঠিত স্কুলের স্যার ম্যাডাম হয়ে গেল। রহমতুল্লাহ স্যারের কানে এখবর পৌঁছালে স্যার দম ধরে থেকে বললেন, পরীক্ষার হলের সেরা নকলবাজ আজ শিক্ষক। শিক্ষা দফারফা হয়ে যাবে। কে শোনে কার কথা।
ফজর আলি কয়েক বছর ব্যাগার খেটে এখন বেতন হয়েছে। মাস শেষে বেতনের টাকা হাতে এলেই স্কুলে দেওয়া টাকার কথা মনে পড়ে ফজর আলির। পুরনো ব্যাথা চাগান দেয়। মনে মনে বলে, টাকার শোক বড় শোক। বেতন পেয়ে স্ত্রীকে এক টাকাও দেয় না পান খেতে। ফজর আলি স্ত্রীকে নিয়ে গাম্ভীর্য বজায় রেখে ভ্যানে চেপে স্কুলে যায়। ছাত্রছাত্রীরা পথে ঠপাঠপ সালাম ঠোঁকে। ফজর আলি মনে মনে ভাবে সুদে টাকাই আজ আমাদের দু’জনের এই সম্মানীয় পদে নিয়ে এসেছে।
ফজর আলির শ্বশুড় বাড়ি গ্রামেই, মেয়ের আবদারে মা প্রায়ই তরকারী পাঠায়ে দেয়। দুই সন্তানকে ফজর আলি নানার বাড়ি থাকতে বলে। মাসের পনের দিন নানার বাড়ি থাকলে সংসার খরচ বেশ কমে যায়। নানা কৌশল অবলম্বন করে ফজর আলির হাতে আবার পয়সা জমতে থাকে। জীবন গেলেও পাঁচ শ টাকার নোট ভাঙ্গায় না। অবসরে মুখের ছ্যাপ নিয়ে বার বার গোনে। ব্যাংকেও বেশ জমেছে। ফজর আলির মনে আবারও শান্তির ছোঁয়া অনুভব করে। কিন্তু সমস্যা হল এলাকায় একই নামের কয়েকজন ফজর আলি। ফজর আলির নামের আগে এলাকাবাসী উপাধি দিয়েছে কিপ্টে। এখন ফজর আলির আগে কিপ্টে যোগ না করলে এলাকায় সহজে কেউ চিনতে পারে না। অর্থের এই শান্তি বেশি দিন কপালে সইল না। কপাল দোষে, অর্থ লোভে পরীক্ষার খাতা দেখার আগেই সের দরে বিক্রি করে ফেলেছে। স্কুলে এখন নতুন কমিটি তারা তো আর গোশ, টাকা ফজর আলির কাছ থেকে খাইনি। তারা শুধু দেখেছে। ব্যাস সঙ্গে সঙ্গে শিক্ষা অফিসার, উপজেলা নির্বাহী অফিসারকে জানিয়ে তালগোল পাঁকিয়ে ফেলল। ফজর আলি সামাল দিতে আবার তার টাকার রাজ্য শূণ্য হয়ে গেল।
ফজর আলি অনেকদিন বাজার থেকে মাংশ কেনেই না। বাড়িতে বিশেষ মেহমান এলে আলমারীর কাঁথার ভাজ থেকে অতি কষ্টে টাকা বের করে এক কেজি মাংশ কিনে মেহমানদের খাওয়ায়ে হাঁড়, ঝোল যা থাকে চেটেপুচে খায়। এবার ঈদে শ্বশুর নেই, শ্বাশুড়ি গরু কোরবানী দিচ্ছে। শুনে ফজর আলি মহাখুশি হল। ঈদের দিন সন্ধ্যের সময় গ্যাসের বড়ি খেয়ে শ্বশুর বাড়ি গেল। ফজর আলি খেতে খেতে প্রায় দুই কেজি মাংশ খেয়ে ফেলল। সকালবেলা ফজর আলিকে হাসপাতালে নিতে হল। চিকিৎসা শেষে দশ হাজার টাকা বিল হল। ফজর আলি কেঁদে ফেলল।
একদিন ফজর আলি স্কুলের টিচার্সরুমে বসে আছে। মাওলানা অমেদ আলি স্যার মধুর নানা উপকারিতার কথা বলছেন। আরও বললেন, পবিত্র কোরআনের সূরা নাহলের বত্রিশ নাম্বার আয়য়াতে আল্লাহ পাক বলছেন, মধুকে আমি পৃথিবীতে ওষুধ রুপে পাঠালাম।
ফজর আলি স্কুল শেষে রাজগঞ্জ বাজারে গেল। ফরমানের দোকানে গিয়ে মধুর দাম জিজ্ঞাসা করল। ফরমান বলল, স্যার দাম শুনে লাভ নেই। দাম শুনলি আপনার হার্টে কুলোবে না। এক কেজির দাম মাত্র সাত শ টাকা। ফজর আলি চুপচাপ দোকান ঘর থেকে বেরিয়ে এল। বাড়ি আসতে দেখল তাদের বাঁশ বাগানে একটা মৌমাছির চাক। বিকেলবেলা লুঙ্গি কাচা মেরে কাঁচি, বালতি,বিচালী একমুঠো, দিয়াশলাই নিয়ে গাছে উঠল। বিচালীতে আগুন ধরাতেই ফুস করে পুড়ে গেল। ধোঁয়া তেমন হল না। সামান্য ধোঁয়ায় মৌমাছি সব উড়তে শুরু করল। প্রথম আক্রমন ফজর আলির উপর শুরু করল। ফজর আলি বালতি কাঁচি ফেলে সড়সড় করে নামতে শুরু করল। কাছা খুলে কঞ্চিতে লুঙ্গি জড়ায়ে গেল। জীবন বাঁচাতে ফজর আলি লুঙ্গি খুলে ঝাপ দিল। দৌড়ে পাশের ডোবায় ডুব দিল। লোক মারফত বাড়ি থেকে স্ত্রীকে ডেকে এনে সব বলল। স্ত্রী গালিগালাচ করতে করতে বাড়ি থেকে কাপড় এনে উদ্ধার করল।
মৌমাছি বিড়াম্বনা ফজর আলিকে ছাড়ল না। চোখমুখ ফুলে গেছে, চুন লাগায়ে শুয়ে আছে। বাড়ির উঠোনে ঈমান দফাদারের চেঁচামেঁচিতে ফজর আলি বারান্দায় এসে বসল। শুনলো, ঈমান দফাদারের প্রায় এক শ কবুতর মৌমাছির কাপড়ে বাড়ি ছেড়ে উড়ে গেছে। বিশটা বাচ্চা মৌমাছির কামড়ে মারা গেছে। এই ক্ষতি পূরণ তাকে দিতে হবে। ঈমান দফাদার ক্ষমতাশীন দলের কর্মী থেকে এখন নেতা হয়েছে। দলের অন্য নেতারা সব জড়ো হয়ে বিচারে বসে পঁচিশ হাজার টাকা জরিমানা করল। দশ হাজার পেল ঈমান দফাদার। পনের হাজার গেল নেতাদের কাঙ্গালীভোজের নামে। ঈমান দফাদারের কিছু কবুতর ফিরে এসেছিল কিন্তু ফজর আলির টাকা আর ফিরে এল না।
ইদানিং ফজর আলিকে নিয়ে কানাঘুসা হচ্ছে। ফজর আলি নিয়মিত ভাল বাজার করে। ভাল রান্না হলে শ্বাশুড়ি মাকে কাছে বসিয়ে দু’জনে গল্প করে আর খায়। বাজারে গিয়ে লোকের সাথে চা বিস্কুট খেযে নিজেই টাকা দেয়। স্কুলে টিফিনের সময় সহকর্মীদের ভাজামুড়ি দিয়ে আপ্যায়ন করে। পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ জামাতের সাথে আদায় করে। লোকের কানাঘুসা থেকে ভেসে এল। মৌমাছির বিষে কিপ্টে ফজর আলি এখন ভাল মানুষ হয়ে গেছে।


এ খবর টি সোস্যাল মিডিয়াতে এ পোষ্ট করুন

এ জাতীয় আরও খবর




© All rights reserved © 2013-2022